এলজিইডি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় জিডি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে প্রবেশ করে এক অফিস সহকারীকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মতিউর রহমান সাগর নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এলজিইডি কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. তৌফিকুল ইসলাম নড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুরে নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন তৌফিকুল ইসলাম। এ সময় মতিউর রহমান সাগর কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর খোঁজ করেন। তবে প্রকৌশলী কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন।

একপর্যায়ে তৌফিকুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে মতিউর রহমান নিজেকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে তার শার্টের কলার ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের সময় মতিউর রহমান উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী ও উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রুমিকে মারার উদ্দেশ্যে কার্যালয়ে এসেছিলেন বলে মন্তব্য করেন। তাদের না পেয়ে তৌফিকুল ইসলামকে ‘নমুনা’ দেখিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. সজিব হোসেন ও অফিস সহকারী মো. সামসুদ্দিন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্তকে কার্যালয় থেকে বের করে দেন। পরে কার্যালয় ত্যাগের সময় মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নিলে আবারও মারধর এবং অফিসে কাজ করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী তৌফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মতিউর রহমান কার্যালয়ে এসে কর্মকর্তাদের না পেয়ে গালাগাল শুরু করেন। তিনি বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং মামলা না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, গত ছয় মাসেও তিনি উপজেলা কার্যালয়ে যাননি এবং মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

 

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাহার মিয়া জানান, এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!