ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নোয়াখালীর এক তরুণ থানায় অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেছেন। ফিফার সভাপতি এবং একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের রেফারির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একটি দলকে জিতিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনি পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তবে বিষয়টি গ্রহণের এখতিয়ার না থাকায় পুলিশ অভিযোগটি নেয়নি।
বুধবার রাত আটটার দিকে নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাকিব সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে যান। তিনি নিজেকে একজন সাধারণ, আইন মেনে চলা ফুটবল সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগে ফিফার সভাপতি ও ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিসহ আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয় এবং তাদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচারের দাবি জানানো হয়।
লিখিত অভিযোগে রাকিব উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি স্থানীয় করমুল্যা বাজারে অন্যদের সঙ্গে বসে মিসর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ দেখছিলেন। তার দাবি, ম্যাচের শুরু থেকেই রেফারি ও ফিফা সভাপতি পরিকল্পিতভাবে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, ম্যাচের ১৪তম মিনিটে মিসর গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্জেন্টিনাকে অন্যায্যভাবে পেনাল্টি দেওয়া হয়। এছাড়া মিসরের আরেকটি বৈধ গোল প্রথমে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরে রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয়।
রাকিব আরও অভিযোগ করেন, ম্যাচের শেষ দিকে মিসরের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হলুদ কার্ড এবং দলের প্রধান কোচকে লাল কার্ড দেখিয়ে তাদের মানসিকভাবে চাপে ফেলা হয়। এর ফলে দলের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য, ফিফার পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত ও রেফারিংয়ের কারণে তিনি এবং বিশ্বের অসংখ্য মিসর সমর্থক মানসিক কষ্ট ও হতাশার শিকার হয়েছেন। এ কারণে তিনি ফিফার কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় এবং সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানান।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করার সুযোগ থানার নেই। বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর ওই তরুণ অভিযোগপত্র নিয়ে ফিরে যান।
তবে রাকিব জানিয়েছেন, তিনি এখানেই থেমে থাকবেন না। প্রয়োজন হলে আদালতে যাবেন এবং দাবি আদায়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :