খাল-ড্রেনের অকার্যকারিতায় জলমগ্ন কালিয়াকৈর পৌরবাসী

তুষার আহম্মেদ , কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

খাল-ড্রেনের অকার্যকারিতায় জলমগ্ন কালিয়াকৈর পৌরবাসী

ফাইল ফটো

অবিরাম কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে। সড়ক, বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় পানি প্রবেশ করায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। গতকাল  রবিবার পৌরসভার হরিণহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙা মসজিদ,।

আনসার একাডেমি, পল্লীবিদ্যুৎ, নিশ্চিতপুর, হাবিবপুর, রূপনগর, শিয়ালপাড়া, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, দিঘীরপাড় বটতলা ও পূর্ব চান্দরাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়ক ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাশয় দখল-ভরাট, পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে।

বিশেষ করে হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অকার্যকারিতার কারণে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকছে।হরতকীতলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, কয়েকদিন ধরে বাড়িতে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র যেতে হয়েছে।বিশ্বাসপাড়ার বাসিন্দা ওফাজ উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।হাবিবপুর এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, এলাকার বহু পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষদের জীবিকা নির্বাহের জন্য কষ্ট করে পানির মধ্য দিয়েই কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে।

শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক ও কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী দেওয়ান মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খাল ও ড্রেনগুলোর ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনঃখনন ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দ্রুত খাল পুনরুদ্ধার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়া হলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগে পড়তে হবে কালিয়াকৈরবাসীকে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!