জিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডিবির বড় সাফল্য

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

জিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডিবির বড় সাফল্য

ফাইল ফটো

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারের সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।  মহানগরের দাক্ষিণ খান পূর্বপাড়ায় ভাড়া নেওয়া একটি শেডে গড়ে তোলা দেশীয় মদ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৬০ লিটার উৎপাদিত দেশীয় মদ, মদ তৈরির কাঁচামাল ভর্তি ২৯টি ড্রাম এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন মেশিনারিজ উদ্ধার করে জব্দ করেছে ডিবি পুলিশ।

রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত ৯টা থেকে সোমবার রাত ১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মিজানুর ইসলাম। অভিযান পরিচালিত হয় গাজীপুর মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দাক্ষিণ খান পূর্বপাড়া ভূঁইয়া বাড়ি মসজিদের পাশের ওই শেডে।

অভিযান চলাকালে উদ্ধার হওয়া শেড ভাড়ার চুক্তিপত্র থেকে জানা যায়, কারখানাটি ১০৫০ বর্গফুটের একটি শেড, যা মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাড়া, ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম জামানত এবং দুই বছরের চুক্তিতে ভাড়া নেওয়া হয়।চুক্তিপত্র অনুযায়ী, শেডের মালিক সদর মেট্রো থানার দাক্ষিণ খান এলাকার এ. কে. এম. শফিকুল কবির। ভাড়াটিয়া মোঃ কামরুজ্জামান মিরাজ, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার কোষাবর গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে।তবে তার জাতীয় পরিচয় পত্র সন্দেহজনক বলে মনে করা হচ্ছে।চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই বছরের জন্য শেডটি ভাড়া দেওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভাড়া নেওয়া ওই শেডেই দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দেশীয় মদ উৎপাদন ও সংরক্ষণের কার্যক্রম চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ, মদ তৈরির কাঁচামাল, ড্রাম ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করে জব্দ করে। ডিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারের "জিরো টলারেন্স" নীতির আওতায় মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, সাইবার অপরাধ, ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। এই অভিযানে অর্জিত সাফল্য মহানগরে অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থানেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

সিয়াম সরিষা
Link copied!