রামমূর্তি থেকে কোটি টাকার রহস্য, হরিদাসের উত্থানের নেপথ্যে কী?

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

রামমূর্তি থেকে কোটি টাকার রহস্য, হরিদাসের উত্থানের নেপথ্যে কী?

ফাইল ফটো

গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তাওহীদ ইসলামকে অর্থপাচার ও প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, হরিদাসের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে গত দেড় বছরে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের বৈধ উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর দরিদ্র পরিবারে জন্ম হরিদাসের। পড়াশোনা ছেড়ে ভারতে প্রায় ৯ বছর থাকার পর দেশে ফিরে তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে পুরোনো এসি বিক্রি ও মেরামতসহ বিভিন্ন ছোট ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৪ সালের পর থেকেই তার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয়। ২০১৮ সাল থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে চাকরি, বদলি, সরকারি টেন্ডার ও প্রকল্প অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালে বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি তাওহীদ ইসলাম নাম নেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক বছরে প্রায় ৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ‘প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক’ নামে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করেন তিনি।

এর আগে ২০২২ সালে ভুয়া ডিও লেটার ব্যবহারের অভিযোগে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করেছিল। তবে পরে আবার সক্রিয় হয়ে মন্দির সংস্কার, কৃষ্ণমূর্তি ও রামমূর্তি নির্মাণ প্রকল্প শুরু করেন। রামমূর্তি নির্মাণে ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ের দাবি করলেও অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সিআইডি জানিয়েছে, হরিদাস জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, ভক্তদের আর্থিক সহায়তা থেকেই এসব অর্থ এসেছে। তবে তদন্তে তার সম্পদের উৎস ও অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!