দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্তে দৈনিক প্রলয় পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক হাসান তদন্ত শেষে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালত ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. খায়রুল আলম রফিক একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ত্রিশালের সাবেক সংসদ সদস্য আনিছের প্রেস সেক্রেটারি না হওয়া সত্ত্বেও তাকে দৈনিক প্রলয় পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল— “নেপথ্যে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার মদদ, থামছেই না সাবেক এমপি আনিছের প্রেস সেক্রেটারি রফিকের অপকর্ম”। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদটি ছিল সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন।
পরে ওই সংবাদের কাটিং এবং খায়রুল আলম রফিকের (ফটো এডিট করা) ছবি ব্যবহার করে আসামীদের ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন আইডিতে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। এছাড়াও “ময়মনসিংহে রফিক-রেজাসহ এজাহারভুক্তদের গ্রেপ্তারে ডিআইজির বরাবরে আবেদন” শিরোনামে আরও একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা তদন্তে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রতিবেদন প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে তারা হলেন— দৈনিক প্রলয় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোছা. রোজিনা আক্তার, প্রধান সম্পাদক মো. মির্জা সোবেদ আলী ওরফে রাজা, নির্বাহী সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান শিপন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদী মো. খায়রুল আলম রফিক কখনও ত্রিশালের সাবেক সংসদ সদস্যের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন— এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা দিতে ব্যর্থ হন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেন, সংবাদিক রফিকের সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র, সাক্ষীদের বক্তব্য ও সার্বিক তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় বিচার চেয়ে ১৮ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :