বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ‘রেংমিটচ্য’ ভাষা: ৫ জন মানুষ মারা গেলে গেলেই ইতিহাস হবে একটি সংস্কৃতি

নিউজ ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:১০ পিএম

বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে ‘রেংমিটচ্য’ ভাষা: ৫ জন মানুষ মারা গেলে গেলেই ইতিহাস হবে একটি সংস্কৃতি

ফাইল ফটো

​ছালেহ আকরাম,চট্টগ্রাম : একটি ভাষার মৃত্যুর অর্থ কেবল কিছু পরিচিত শব্দের হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি প্রাচীন সংস্কৃতি ও সভ্যতার চিরতরের বিলুপ্তি। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে বর্তমানে তেমনই এক নিঃশব্দ হাহাকার চলছে। সেখানের বিপন্ন ‘রেংমিটচ্য’ ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন এমন মানুষের সংখ্যা এখন মাত্র পাঁচজন! সম্প্রতি মাংওয়াই ম্রো (৬৪) নামের এক রেংমিটচ্যভাষীর মৃত্যুর পর এই সংখ্যাটি আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে।

​পাহাড়ের এই প্রাচীন ভাষাটি নিয়ে এখন চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জীবিত এই পাঁচজন ভাষীর বয়স বর্তমানে ৬০ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে, যাদের মধ্যে দুজন আবার মারাত্মক অসুস্থ। রেংমিটচ্য ভাষার কোনো নিজস্ব লিপি বা বর্ণমালা নেই। ফলে নতুন প্রজন্ম এই ভাষা শেখার কোনো সুযোগ পাচ্ছে না; তারা দৈনন্দিন প্রয়োজনে ম্রো কিংবা বাংলা ভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

​তবে আশার কথা হলো, এই ভাষাটিকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনে রেংমিটচ্য ভাষা নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন আফসানা ফেরদৌস আশা। তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করে এই বিপন্ন ভাষার তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টেশন) সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন এবং ইতিমধ্যেই দেড় হাজার শব্দের একটি অভিধানের খসড়া তৈরি করেছেন। এর আগে ম্রো সম্প্রদায়ের গবেষক ইয়াংঙান ম্রো এই ভাষার কথোপকথন ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে ‘মিটচ্য তখক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন, যেন স্মারক হিসেবে হলেও ভাষাটি টিকে থাকে।

​পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটও ভাষাটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণার জন্য বাঁচিয়ে রাখতে এর ডকুমেন্টেশন সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নির্মম বাস্তবতার কথা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—এই পাঁচজন প্রবীণ মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে তাদের সঙ্গেই চিরতরে চিতাখণ্ডে পরিণত হবে একটি প্রাচীন ভাষা। আর এর মাধ্যমেই পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যেতে পারে অনন্য এক জাতিগত পরিচয় ‘রেংমিটচ্য’।

সিয়াম সরিষা
Link copied!