রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শত অভিযোগ পত্রিকার নিউজ হওয়ার পরেও বহুল তবিয়তে আছেন

মোঃ হাসান , বান্দরবান, জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শত অভিযোগ পত্রিকার নিউজ হওয়ার পরেও বহুল তবিয়তে আছেন

ফাইল ফটো

বান্দরবানের লামা উপজেলার ডলুছড়ি রেঞ্জ এলাকায় প্রজনন মৌসুম চলাকালীন কাঁচা বাঁশ কাটা, ঘুষ বাণিজ্য সহ নানা অভিযোগের পরেও ব্যবস্থা নেয়নি বনবিভাগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি পাচারকারী চক্র বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লামা-গজালিয়া-সুয়ালক সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—বুড়ির ঝিরি, নোয়াপাড়া, ফারেংগা ব্রিজ, ডিসি রোডের রাবার বাগান এলাকা, বাইশফাঁড়ি, কম্পানিয়া, ডিগ্রিখোলা বাজার, আন্ধারী হিমছড়ি, আমতলী বাজার ও লম্বাখোলাসহ কোয়ান্টাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিপুল পরিমাণ কাঁচা বাঁশ মজুত করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব বাঁশ ছোট-বড় যানবাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন গন্তব্যে পাচার করা হচ্ছে।এ সংক্রান্ত নিউজ পত্রিকায় প্রকাশের পরেও। একই ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি করেই যাচ্ছেন।  স্থানীয়দের ভাষ্য, ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম আলতাফ হোসেন এবং সরই বনবিট কর্মকর্তা করিমের মৌখিক অনুমতিতেই সিন্ডিকেটের সদস্যরা নির্বিঘ্নে কাঁচা বাঁশ কাটছে, মজুত করছে এবং পরিবহনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময় বাঁশের প্রজননকাল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে অপরিপক্ব বাঁশ নির্বিচারে কেটে ফেলা হলে বাঁশঝাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। এতে শুধু বনজ সম্পদই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ে। পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা জানান, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবেই এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।তারা আরও দাবি করেন, কাঁচা বাঁশের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম আলতাফ হোসেনের মুঠোফোনে বারবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।তাই তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে লামা বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

সিয়াম সরিষা
Link copied!