কুমিল্লা পুলিশ সুপারকে ঘিরে বিতর্ক: খণ্ডিত বক্তব্য নাকি পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট?

আলম চৌধুরী , সিনিয়র রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

কুমিল্লা পুলিশ সুপারকে ঘিরে বিতর্ক: খণ্ডিত বক্তব্য নাকি পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট?

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তার পেছনের প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ জানা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একটি বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলেও, পুরো বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সভায় কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করেন যে, তিনি কুমিল্লায় যোগদানের পর ফ্যাসিস্টরা এলাকায় সক্রিয় হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এ সময় পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জবাবে বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয় এবং অভিযোগ করতে হলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই তা করা উচিত।

নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি নিজেও একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি আইন ও পেশাগত নীতিমালাকেই প্রাধান্য দেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া উচিত নয়। মামলায় কাকে গ্রেপ্তার করা হবে, সেটি আইন ও তদন্তের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে ঢালাও মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়ে আনিসুজ্জামান বলেন, কথা বলার আগে বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এমন এক সময় তৈরি হয়েছিল, যখন দেশের অনেক স্থানে পুলিশ কার্যত অনুপস্থিত ছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে পুলিশ বাহিনী আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নানা কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময় পার হয়েছে, তাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া উচিত।

বিচারহীনতার অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, দেশে বিচার হচ্ছে না—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বিভিন্ন আলোচিত মামলায় আদালত রায় দিয়েছেন, অনেক আসামির সাজা হয়েছে এবং অসংখ্য মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চলমান। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেও বহু আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন এবং চার্জশিট দাখিল করেছেন।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অনেকেই মনে করছেন, কোনো বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ দেখে মন্তব্য করার আগে তার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট জানা জরুরি। কেবল একটি অংশ নয়, বরং পুরো বক্তব্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই মতামত দেওয়া উচিত।

সচেতন মহল বলছে, গুজব ও আবেগের বশবর্তী না হয়ে তথ্য যাচাই করে মন্তব্য করাই একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয়। তাই যেকোনো আলোচিত বক্তব্য বা ঘটনার ক্ষেত্রে আগে বিষয়টি বুঝে নেওয়া এবং এরপর মতামত প্রকাশ করাই হবে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।

সিয়াম সরিষা
Link copied!