৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ: ৩০ মিনিটে প্রধান শিক্ষকসহ দুই আসামি আটক

রিয়াজ ফরাজী , বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ: ৩০ মিনিটে প্রধান শিক্ষকসহ দুই আসামি আটক

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৯৯ নং হাসান নগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক চতুর্থ শ্রেণির ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রধান শিক্ষকসহ দুই আসামিকে আটক করেছে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ। পুলিশের এই দ্রুত অভিযানে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রফিজল ইসলাম (৬৫) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ভুক্তভোগী তার ৯ বছর বয়সী নাতনি, যিনি ৯৯ নং হাসান নগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই ২০২৬ বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন শিশুটিকে তার কক্ষে বসিয়ে রাখেন। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে তাকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার স্টোররুমে নিয়ে একটি টেবিলের ওপর শুইয়ে পাজামা খুলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শিশুটি ডাকচিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে বাড়িতে ফিরে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছিল না। তার দাদি বিষয়টি লক্ষ্য করে কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে ভয় পেলেও পরে পুরো ঘটনা খুলে বলে।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাচ্চুকে জানানো হলে তিনি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং মামলা না করার জন্য চাপ দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা দায়েরের পরপরই বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান-এর নির্দেশনায় পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করে ৯৯ নং হাসান নগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অপর এক অভিযুক্তকে আটক করে। এত অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশের তৎপরতা প্রশংসিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের এ উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

এদিকে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, "মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি সবসময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীদের সঙ্গে ভদ্র ও মানবিক আচরণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে এর আগে কখনো এমন কোনো অভিযোগ ওঠেনি। ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। সত্য উদঘাটিত হলে প্রকৃত ঘটনা সবার সামনে আসবে।"

বোরহানউদ্দিন থানার (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন - আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তও গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!