টানা বৃষ্টির প্রভাবে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কাঁচাবাজারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহে বিঘ্নের কথা। তবে বাজারে পণ্যের ঘাটতি না থাকলেও দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, বৃষ্টি হলেই সবজির দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। রোববার (২০ জুলাই) তাড়াইল সদর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিন বাজারে করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে এখন ৮০ থেকে ১২০ টাকা। সজনে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল ১০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। বাজারে পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ টাকা কেজি।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণেই দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ অনেক ক্রেতা। তাড়াইল সদর বাজারের নিয়মিত ক্রেতা মাসুদ করিম বলেন, আকাশে মেঘ দেখলেই বাজারে দামের পারদ চড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই বলা হয় মাল আসেনি। অথচ বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই, শুধু দামটাই বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহে সাময়িক প্রভাব পড়লেও যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তা যৌক্তিক নয়। তাদের মতে, বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি প্রশাসনের না থাকায় আবহাওয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করছেন, যার চাপ শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
তাড়াইল মাদরাসা মার্কেট কাঁচামাল আড়তদারদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, বাজারে এখন কিছু সবজি পাওয়া যাচ্ছে, এটাই স্বস্তির। প্রায় সপ্তাহজুড়ে সারাদেশে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমিতে পানি জমে গেছে। পানি জমলে সবজি গাছ বাঁচে না। এখন বাজারে যেসব সবজি আসছে, সেগুলো বেশির ভাগই পচে বা মরে যাচ্ছে এমন গাছের সবজি। এসব গাছ মরে গেলে বাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :