মোঃ রাজিব ভূইয়া ,বেলাবো :নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের কুকুরমারা শান্তিপুর গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। রিং-স্ল্যাব (সিমেন্টের চাক) বসানোর সময় একটি টয়লেটের গর্তে অলৌকিক ও অস্বাভাবিকভাবে সোহরাব হোসেন নামে এক ব্যক্তির পা মাটিতে আটকে যায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় ঘটনাস্থলে এক্সেভেটর (ভেকু) এনে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কুকুরমারা শান্তিপুর গ্রামের একটি বাড়িতে টয়লেটের গর্তে রিং-স্ল্যাব বসানোর কাজ করছিলেন ৪-৫ জন শ্রমিক। আনুমানিক ৮-১০টি চাক বসানোর পর গর্তের ভেতর হঠাৎ পানি উঠতে শুরু করে। এ সময় সেচ দিয়ে পানি সরানোর উদ্দেশ্যে সোহরাব হোসেন গর্তের নিচে নামেন। কিন্তু নিচে নামার পরপরই কাদার মধ্যে অদ্ভুতভাবে তাঁর পা দেবে আটকে যায়।
সোহরাব হোসেন অনেক চেষ্টা করেও পা তুলতে না পেরে ওপরে থাকা সহযোগীদের জানান। প্রাথমিক অবস্থায় সহযোগীরা বিষয়টিকে ছলচাতুরী মনে করে হাসাহাসি করেন। কিন্তু দীর্ঘসময় পার হয়ে যাওয়ার পর সোহরাব উঠতে না পারায় ৩ জন শ্রমিক গর্তে নেমে তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তাঁদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে স্থানীয় উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমায় এবং সবাই মিলে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েও কোনো সুরাহা করতে পারেনি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদল। কাদার ভেতর অস্বাভাবিকভাবে পা আঁটকে থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হলে তাঁরা একটি এক্সেভেটর (ভেকু) ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, "কাদা মাটিতে পা ঢুকে এভাবে অলৌকিক বা অদ্ভুত উপায়ে আটকে থাকার ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। আমরা সাধ্যমতো উদ্ধার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।" ৮ ঘণ্টা পর প্রায় ১৪ ফুট গভীর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের অদ্ভুত ঘটনা তাঁরা আগে কখনও দেখেননি। কাঁদা মাটিতে পা এভাবে স্থায়ীভাবে আটকে যাওয়া সত্যিই এক রহস্যজনক ও অলৌকিক বিষয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এক্সেভেটর ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ সহায়তায় উদ্ধার কাজ জোড়ালোভাবে চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :