নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ৮৯ নম্বর কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাকলি দাসের বিরুদ্ধে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মারধর এবং অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ তদন্তও করেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক কাকলি দাস প্রায় তিন বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছেন। এ অবস্থায় তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের অমানবিকভাবে মারধর করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসিবা হান্নাহকে মাথার চুল ধরে নিচের দিকে চেপে রেখে পিঠে একাধিক কিল মারার অভিযোগ ওঠে। এতে ওই শিক্ষার্থী আহত হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় কাকলি দাসের ওই শ্রেণিতে কোনো ক্লাস ছিল না। টিফিনের পর পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে মাত্র তিনজন ছাত্রী অবস্থান করছিল। এ সময় তিনি সেখানে গিয়ে হাসিবা হান্নাহকে মারধর শুরু করেন। অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে ছাড়াতে গেলে নুসরাত নামে আরেক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষক কাকলি দাস প্রায়ই শ্রেণিকক্ষের ডাস্টবিন থেকে ময়লা ও কাগজ নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে ভরে নেন এবং কিছু ময়লা ছড়িয়ে দেন। এ ধরনের আচরণকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা তার অপসারণ বা অবসরের পাশাপাশি শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “কাকলি ম্যাডাম কারণে-অকারণে আমাদের মারধর করেন। ক্লাস না থাকলেও আমাদের কক্ষে এসে হিন্দু-মুসলিম সবাইকে হিন্দু ধর্ম শিক্ষা বই বের করে পড়তে বলেন। প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করে আসছেন।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, “প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কাকলি দাসের এলোমেলো আচরণ চোখে পড়ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
তবে শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে সময়ের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যেখানে প্রধান শিক্ষক এক সপ্তাহ ধরে আচরণগত সমস্যার কথা বলছেন, সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রায় এক থেকে দেড় বছর ধরে তারা একই ধরনের আচরণের শিকার হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করেছি। আমাদের কাছেও মনে হয়েছে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার বিষয়টিও জানা গেছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নেবেন।”
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কাকলি দাস একটি কক্ষে চুপচাপ বসে ছিলেন। তবে তাকে কোনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে দেখা যায়নি। এ ঘটনায় অভিভাবকরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :