পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে যশোরের কেশবপুর উপজেলায় শনিবার (২৫ জুলাই) এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ মোক্তার আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস ছামাদ বিশ্বাস, উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মোঃ সাইদুর রহমান সাইদ, পৌর জামায়াতের আমীর প্রভাষক মোঃ জাকির হোসেন প্রমুখ। এ সময় জামায়াত ও বিএনপির থানা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ মোক্তার আলী বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যায়ও সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কৃষি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও সুন্দর কেশবপুর গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। উপস্থিত সবাই পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সবুজ কেশবপুর গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকদের মতে, আজ রোপণ করা প্রতিটি গাছ আগামী দিনের সুস্থ পরিবেশ, নির্মল বাতাস এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ কেশবপুর গড়তে আজকের একটি গাছই হতে পারে আগামী দিনের প্রাণ।

আপনার মতামত লিখুন :