যশোরের কেশবপুর উপজেলার লক্ষ্মীনাথকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের আপত্তিতে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীনাথকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালের ১ জুলাই সরকারি হয়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন শিক্ষক এখানে কর্মরত। প্রধান শিক্ষক মো. আবু মুসা, সহকারী শিক্ষক মোছা. দেলারা পারভীন, মো. আতিয়ার রহমান, মোছা. সাবিনা ইয়াসমিন এবং লাবনী চৌধুরী লিমা দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বিরোধ সৃষ্টি করছেন, যার প্রভাব শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার ওপরও পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অভিভাবককে বিভ্রান্ত করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার কাছে একটি অভিযোগ আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল চন্দ্র সরকারকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাই এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করি। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে আসতে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। সকল পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শাহিনুর রহমান বলেন, “লক্ষ্মীনাথকাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি অযথা সমস্যার সৃষ্টি করছেন। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু মুসা বলেন, “বিদ্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়। আমি অভিভাবকদের ডেকে সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে কমিটি করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়।” অভিভাবক নিলুফা বেগম, হাফিজা খাতুন ও দেলারা বেগম জানান, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। তারা বলেন, “শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হোক আমরা চাই না। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের দ্বন্দ্ব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। তারা বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পাঠদান কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এই দীর্ঘদিনের সুনামধন্য বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার মান ধরে রাখতে সকল পক্ষের উচিত মতভেদ ভুলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ একটি বিদ্যালয়ের মূল শক্তি তার শিক্ষার্থী, আর তাদের শিক্ষা গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ ও অভিভাবক সবার দায়িত্ব।

আপনার মতামত লিখুন :