কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনার জেরে সাত শিক্ষককে বদলির পর সৃষ্ট শূন্য পদে ছয়জন শিক্ষককে পদায়ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ বেতন-ভাতায় উল্লিখিত পদে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে মোহাম্মদ মোস্তফা সারোয়ার খান, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মো. আশিকুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মো. আব্দুল মতিন, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মো. খালেদ ইকবাল জুয়েল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে ইসরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজী মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহকে পদায়ন করা হয়েছে।
এর আগে, এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজটির সাত শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কক্সবাজার, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায় তাঁদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই আদেশে আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম, অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক, সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া, ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার, সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ, প্রভাষক মো. আল-আমিন এবং সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন।
এদিকে বদলি হওয়া শিক্ষকদের দাবি, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত ১৩ জুলাই টানা বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল না এবং নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ওই জলাবদ্ধতার ঘটনাকেই কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই কলেজটি পরিদর্শনে এসে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এদিকে জলাবদ্ধতা ইস্যুতে *দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে* সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর দ্রুত শূন্য পদগুলোতে ছয়জন শিক্ষককে পদায়নের মাধ্যমে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন :