সোনারগাঁয়ে হামলায় বিএনপি কর্মীর মৃত্যু, রাজনৈতিক নাকি পারিবারিক বিরোধ—তদন্তে পুলিশ

মইন আল হোসাইন , সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

সোনারগাঁয়ে হামলায় বিএনপি কর্মীর মৃত্যু, রাজনৈতিক নাকি পারিবারিক বিরোধ—তদন্তে পুলিশ

ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা এলাকায় হামলার ঘটনায় রাজু আহমেদ (৩২) নামে এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত প্রায় ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু আহমেদ ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে।

নিহতের মা ও ছোট বোনের অভিযোগ, রাজু আহমেদ আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, পূর্বের রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে রাজুকে হত্যা করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে রাজুর ফুফাতো ভাই ইয়ামিনের সঙ্গে নুরুল ও জাকিরের বাকবিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় রাজু এগিয়ে গিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, পরে নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইয়ামিনকে খুঁজতে এসে রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। ইয়ামিনকে না পেয়ে তারা রাজুকে বেধড়ক মারধর ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করে আহত করা হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজু আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে নাকি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।তিনি জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপঙ্কর ঘোষ বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক না পারিবারিক-উভয় দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!