টেকনাফে সাবেক ইউপি সদস্য ও সংবাদকর্মীকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা, দুই পা ক্ষতবিক্ষত

মনসুর আলম মুন্না , স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

টেকনাফে সাবেক ইউপি সদস্য ও সংবাদকর্মীকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা, দুই পা ক্ষতবিক্ষত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় সংবাদকর্মী জামাল উদ্দিনকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর দুই পায়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।আহত জামাল উদ্দিন (৪০) হ্নীলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এবং একজন স্থানীয় সংবাদকর্মী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমি স্কুলের সামনে চা পান করার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে আসা ৫ থেকে ৭ জন মুখোশধারী অস্ত্রধারী ব্যক্তি তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অপহরণের কিছুক্ষণ পর কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সিএনজি অটোরিকশাটি হ্নীলা দরগাহ এলাকার পশ্চিম দিকে যেতে দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে আলোচিত পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত ডাকাত আনোয়ার হোসেন ওরফে "লেড়াইয়া" এর নেতৃত্বাধীন একটি সশস্ত্র দল জামাল উদ্দিনকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর দুই পায়ে গুরুতর আঘাত করে। একপর্যায়ে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে কথিত আন্তর্জাতিক মাদক সম্রাট মো: হারুন (৩৫), জালাল আহমদ ওরফে লাশ জালাল, মো. আলম ওরফে শফিয়া, মোস্তাক, মিজান ওরফে লম্বা মিজান, গিয়াস উদ্দিন, শাহ আলম, সাইফুল ওরফে মাথা সাইফুল, আবুল আলম, আতর সাইফুল ইসলামসহ প্রায় ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাহাড় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় আস্তানা গড়ে তুলেছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার, অপহরণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরি কোনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে অপহরণ, ডাকাতি, হত্যা ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্রের প্রভাবে স্থানীয়রা তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর নেতৃত্বে একটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতি, মাদক কারবার, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

নুর কামাল নামে এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, হ্নীলা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও সংবাদকর্মী জামাল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমি স্কুলের সামনে থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত জামাল উদ্দিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে হ্নীলা মেমোরিয়াল কলেজের পাশে ফেলে রেখে যায় বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারে পাঠিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। নুর কামাল দাবি করেন, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন জামাল উদ্দিন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, হ্নীলায় সাবেক ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিনকে মারধরের বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর এলাকায় আলোচিত ডাকাত ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত আনোয়ার ডাকাত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য, রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা জামাল মেম্বারের ছেলে এবং কথিত মাদক কারবারি শাহ আজম সরকারকে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে শাহ আজম সরকার বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!