কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ডাক্তার উম্মে হাবিবা জুইঁয়ের দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক ও দৈনিক যায় যায় দিন এবং বাংলাভিশন টিভির প্রতিনিধি সত্যজিৎ দাস ধ্রুব। গত ২৭ জুলাই সোমবার ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২৭ জুলাই সোমবার বাজারের নামকরণ নিয়ে ভৈরবের আকবরনগর ও মীরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে দুজন মারা যান এবং উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত লোক আহত হন। আহত ২৯ জন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর যুগান্তর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান ফারুক ও যায় যায় দিন পত্রিকার ভৈরব প্রতিনিধি সত্যজিৎ দাস ধ্রুব নিহত ও আহতদের খোঁজ এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য দুপুর ২টা ১০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। হাসপাতালে গিয়ে তারা আহত রোগীদেরসহ জরুরি বিভাগের কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ নেন।
এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার উম্মে হাবিবা জুইঁ ভিডিও ফুটেজ নিতে দুই সাংবাদিককে বাধা দেন এবং ভিডিও মুছে ফেলতে বলেন। তার কথায় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করেন। তখন যুগান্তর সাংবাদিক বলেন, "ভিডিও ডিলেট করব কেন? আপনি আহতদের তালিকাটি দেন।" এরপর ডাক্তার জুইঁ উত্তেজিত হয়ে বলেন, "আমার অনুমতি ছাড়া ভিডিও করলেন কেন ও জরুরি বিভাগে প্রবেশ করলেন কেন?"
তখন সাংবাদিকরা বলেন, "হাসপাতালে প্রবেশ করতে আর রোগীদের ভিডিও-ছবি তুলতে আপনার অনুমতি লাগবে কেন? তথ্য অধিকার আইনে সাংবাদিকরা তথ্য চাইতে পারে ও নিতে পারে।" একথা শুনে ওই ডাক্তার জুইঁ আরও উত্তেজিত হয়ে উচ্চস্বরে দুই সাংবাদিককে জরুরি বিভাগ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। তিনি আরও বলেন যে, কোনো তথ্য দিতে তিনি বাধ্য নন। ঘটনার সময় হাসপাতালের কর্মচারী মোজাম্মেল ও আমজাত উপস্থিত ছিলেন। একজন ডাক্তারের কথার ভাষা দেখে তারাও হতবাক হন।
একপর্যায়ে ডাক্তার জুইঁ উচ্চস্বরে দুই সাংবাদিককে জরুরি বিভাগ থেকে বের হতে বলেন। জানা গেছে, ডাক্তার জুইঁ ইতিপূর্বে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করেছেন। তিনি রোগীদের সঙ্গেও প্রায় সময় খারাপ ব্যবহার করেন এমন অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর ও কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়। সাংবাদিকরা ডাক্তার জুইঁয়ের বিচার দাবি করেছেন।
এবিষয়ে যায় যায় দিন পত্রিকার সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস ধ্রুব বলেন, "একজন হাসপাতালের ডাক্তার এ ধরনের দুর্ব্যবহার করতে পারেন না। রোগীদের ছবি-ভিডিও ধারণ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের জরুরি বিভাগ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন, যা অশোভনীয় আচরণ।"
যুগান্তর সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, "আমার ৩৫ বছরের সাংবাদিক জীবনে আমি এমন ডাক্তার দেখিনি। তিনি ঘটনার সময় উচ্চস্বরে দুই সাংবাদিকের সঙ্গে অশোভন ও অশালীন আচরণ করেছেন। ঘটনাটি তার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।" তিনি তার বিচার দাবি করেন।

আপনার মতামত লিখুন :