গাজীপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের পেছনে প্রশাসনের মদদের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি

শরীফ ওমর টুটুল , গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

গাজীপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের পেছনে প্রশাসনের মদদের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি

গাজীপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল, ঝুট ব্যবসা, মাদক কারবার, সন্ত্রাস, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্যের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় যুব শক্তি ও জাতীয় কৃষক শক্তি।

বিকেল ৫টায় গাজীপুরের পালের মাঠ মৃধা বাড়ির বরকত স্মরণীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এনসিপির যুগ্ম সংগঠক আলী নাসের। তিনি বলেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চলছে এবং এর পেছনে পুলিশের একটি অংশ, বিএনপির কিছু নেতা, ঝুট ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

আলী নাসের অভিযোগ করেন, গাজীপুরের পাঁচজন সংসদ সদস্যের মধ্যে চারজন বিএনপির হলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ধারাবাহিক মিছিলের বিরুদ্ধে তাঁদের কার্যকর কোনো অবস্থান দেখা যায়নি। তিনি শ্রীপুরের ৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এবং গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম রনির নাম উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় একের পর এক ঝটিকা মিছিল হলেও তাঁরা প্রকাশ্যে কোনো কার্যকর বক্তব্য দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন, সংগঠিত হচ্ছেন এবং অর্থায়নের মাধ্যমে ঝটিকা মিছিল পরিচালনা করছেন। কয়েকজন অভিযুক্তের মধ্যে আ:লীগ নেতা আব্দুর রহিম একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্বে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী আ:লীগ নেতা বর্তমানে গাছা থানা বিএনপির যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম মন্ডলের ছবি প্রদর্শন করেন বক্তা।

আলী নাসের দাবি করেন, গাছা, বাসন, রাজেন্দ্রপুর, সালনা ও পুবাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ঝটিকা মিছিল হয়েছে। এসব মিছিলের বিষয়ে আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়নি। বরং প্রশাসনের একটি অংশ আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিষ্ক্রিয় থেকেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা, মাদক কারবার, বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের কিছু আওয়ামী আমলের সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসে মিছিল করে আবার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চলে যাওয়াকে গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করে আরও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। এ ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন আলী নাসের। পাশাপাশি গাজীপুর ও শ্রীপুরে সাংবাদিক হত্যাসহ একাধিক আলোচিত অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, গাজীপুরে প্রকাশ্যে মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, জিএমপি কমিশনার এবং গাছা, বাসন, সদর ও পুবাইল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন, মাদক, ঝুট ব্যবসা ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক শক্তি কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক মো-মাইদুল ইসলাম, গাজীপুর গাছা থানার সদস্য সচিব নাফিও পাঠান, যুবশক্তি গাছা থানার আহ্বায়ক সম্রাট। এছাড়াও অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন, যেমন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রীয় সদস্য রাহাত হাসান এবং শরীফ ওমর টুটুল (গাজীপুর মহানগর)।

Link copied!