সীমান্তে কোনো ধরনের পুশইন না করা এবং নিরীহ-নিরস্ত্র ব্যক্তিদের ওপর গুলি চালানো থেকে বিরত থাকতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসঙ্গে মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে উভয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) নীলফামারী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নীলফামারী ব্যাটালিয়ন (৫৬ বিজিবি)-এর ঘাগড়া বিওপির আওতাধীন মমিনপাড়া এলাকায় (সীমান্ত মেইন পিলার ৭৫৩-এর কাছে) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবির ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, সীমান্তে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পুশইনের পরিবর্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য বিজিবির কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বিজিবি সেই তথ্য যাচাই বাছাই শেষে নিয়মিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের গ্রহণ করবে।
এ সময় সীমান্তে 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা উল্লেখ করে বিজিবি জানায়, মাদক, অস্ত্র ও অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
৯৩ বিএসএফ-এর কমান্ড্যান্ট সঞ্জয় কুমার সিং-এর নেতৃত্বে বিএসএফ-এর ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। বিএসএফ কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের মাধ্যমে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত না করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি চোরাচালান প্রতিরোধে দুই বাহিনীর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি ও বিএসএফ-এর বিদ্যমান সুসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ হয়। বৈঠকে ৫৬ বিজিবির পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন মেজর কাজী আসিফ আহমেদ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের নিয়মিত সমন্বয় সভা সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন :