কেশবপুরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে ঢাকা বিভাগে বদলি ইউএনও রেকসোনা খাতুন

হারুনার রশীদ বুলবুল , কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

কেশবপুরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে ঢাকা বিভাগে বদলি ইউএনও রেকসোনা খাতুন

ফাইল ফটো

যশোরের কেশবপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রেকসোনা খাতুন ঢাকা বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হয়েছেন। প্রায় দেড় বছরের দায়িত্বকালে প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, মানবিকতা এবং জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি কেশবপুরের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। তাঁর বদলির খবরে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এক ধরনের আবেগঘন বিদায়বেলার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫ সালের ১৭ মার্চ কেশবপুরে যোগদানের পর থেকেই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং ১৪৪টি গ্রামের মানুষের কাছে সরকারি সেবা সহজ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেন তিনি। জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি বা সীমিত উপস্থিতির মধ্যেও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে কেশবপুরে সুশাসন, উন্নয়ন এবং জনসেবার মান আরও গতিশীল হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

দায়িত্ব পালনকালে মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন অগ্রণী। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় নিজে উপস্থিত থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। অসহায়, দুস্থ, রোগাক্রান্ত ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে প্রশংসা অর্জন করেন।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আটজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণের উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশের সৌন্দর্যবর্ধন এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান সৃষ্টির উদ্যোগও মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি, প্রশাসনিক সেবা প্রদান এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ-সমস্যার দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁর আন্তরিকতা তাঁকে একজন দক্ষ, সৃজনশীল ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

বিদায়ী অনুভূতি জানিয়ে ইউএনও মোছাঃ রেকসোনা খাতুন বলেন, কেশবপুর আমার কর্মজীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। দায়িত্ব পালনের সময় আমি সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসনের সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুধীজন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এসব কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। আমি কেশবপুরবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নতুন কর্মস্থলেও দেশ ও জনগণের কল্যাণে একই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই। সকলের কাছে দোয়া ও শুভকামনা কামনা করছি।

এদিকে দীর্ঘ সময় সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে তাঁর বদলিতে কেশবপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন কর্মস্থলে তাঁর সফলতা, সুস্বাস্থ্য এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মতে, একজন জনবান্ধব, কর্মঠ ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে মোছাঃ রেকসোনা খাতুন কেশবপুরবাসীর মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

Link copied!