‘ধাওয়া খেয়ে’ ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, পুলিশের অস্বীকার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

‘ধাওয়া খেয়ে’ ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, পুলিশের অস্বীকার

ফাইল ফটো

ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাকে ধরতে ধাওয়া করলে প্রাণভয়ে ছাদে উঠে সেখান থেকে পড়ে যান তিনি। তবে পুলিশ বলছে, ধাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। পুলিশকে দেখে ভয়ে ছাদে উঠে পালানোর সময় তিনি পড়ে যেতে পারেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারের একটি পাঁচতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মনোয়ারুল বিপিএটিসির নিরাপত্তা প্রহরী মুহম্মদ জাফর আলীর ছেলে।

মনোয়ারুলের বাবা মুহম্মদ জাফর আলী বলেন, রাতে পুলিশের একটি দল হঠাৎ তাদের বাসা ঘেরাও করে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ মনোয়ারুলকে ধরতে ধাওয়া করলে সে প্রাণভয়ে ভবনের ছাদে উঠে যায়। পরে সেখান থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে পরিবারের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।

ওসি জানান, রংপুরের পীরগাছা থানায় দায়ের করা একটি অপহরণ মামলার আসামির অবস্থান সাভারে নিশ্চিত হওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কনক কান্তি বর্মন সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতা চান। পরে সাভার থানার এসআই আব্দুল হাইকে সঙ্গে নিয়ে পীরগাছা থানার পুলিশ সদস্যরা রাতে বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারে জাফর আলীর চারতলার ফ্ল্যাটে যান।

পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই ওই মামলার আসামি এবং তার সঙ্গে থাকা এক তরুণী চলে যান বলে জানান ওসি। এর কিছুক্ষণ পর ভবনের ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান পুলিশ সদস্যরা। বাইরে এসে তারা নিচে মনোয়ারুলকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে তাকে উদ্ধার করে রাতেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি সাইফুল আলম বলেন, অভিযানের পর প্রথমে পুলিশের ধাওয়ার বিষয়টি শোনা গেলেও পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, পুলিশকে দেখে ভয়ে ছাদে উঠে পালানোর সময় মনোয়ারুল পড়ে যান।

তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

এদিকে পরিবারের সদস্যরা মনোয়ারুল ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন। তবে সাভার থানা ছাত্রদলের সভাপতি ফয়সাল আহমদ মাশফি বলেন, মনোয়ারুল থানা ছাত্রদলের কোনো পদে ছিলেন না।

ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা সাভার মডেল থানার এসআই আব্দুল হাইয়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ঘটনাটি ঘিরে পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Link copied!