নড়াইলে ১৭ শিক্ষক-কর্মচারীর মাদরাসায় ১৮ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

রাসেদুল ইসলাম , লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

নড়াইলে ১৭ শিক্ষক-কর্মচারীর মাদরাসায় ১৮ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

ফাইল ফটো

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী দাখিল মাদরাসায় ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একই উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা দাখিল মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থীও এবার দাখিল পরীক্ষায় পাস করেনি। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে মোট ১৮৩টি। এর মধ্যে এবার দুটি মাদরাসার শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—পেড়লী দাখিল মাদরাসা ও আফরা দাখিল মাদরাসা।

 পেড়লী দাখিল মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯০ সালে প্রথম দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ১৯৯৩ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে মাদরাসাটিতে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী এবং সুপারসহ ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির সব পরীক্ষার্থী পাস করলেও এবার ফল হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৮ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি।

 তবে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পেড়লী দাখিল মাদরাসার পরীক্ষার্থী তুষ্মি খানম দাবি করেন, তিনি বিদ্যালয়জীবনে নিয়মিত ভালো ফলাফল করেছেন এবং পরীক্ষাও ভালো দিয়েছেন। কিন্তু ফলাফলে ইংরেজি বিষয়ে তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। এ কারণে তিনি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করবেন বলে জানান। তুষ্মির মা রুমা বেগম বলেন, তাঁর মেয়ে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এবং পড়াশোনায় নিয়মিত ভালো করেছে। পরীক্ষায় ভালো করার পরও তাকে ইংরেজিতে ফেল দেখানোয় বিষয়টি নিয়ে তারা বিস্মিত।

 পেড়লী দাখিল মাদরাসার সুপার আশরাফুল জাম্মান বলেন, অন্যান্য বছর প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হলেও এবার ফলাফল অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো শিক্ষার্থীও রয়েছে। ফলাফল নিয়ে যাদের সন্দেহ রয়েছে, তাদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হবে। অন্যদিকে, আফরা দাখিল মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির ভবনও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরে স্থানীয় একজনের মাধ্যমে মাদরাসার সুপার আতিকুর রহমানকে ডেকে আনা হয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বর্তমানে মাদরাসাটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

 নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, পেড়লী ও আফরা দাখিল মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থী এবার পাস করেনি। তিনি সম্প্রতি নড়াইলে যোগ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠান দুটি পরিদর্শন করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার নড়াইল জেলা থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৮ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০৪ জন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৩৭০ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ১৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!