মৌলভীবাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ৩৪ কোটি টাকার প্রশ্ন?

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০৯ এএম

মৌলভীবাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ৩৪ কোটি টাকার প্রশ্ন?

ফাইল ফটো

মৌলভীবাজারের মনু নদ সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন প্রকল্পে পাম্প ক্রয়ে প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়মুক্তি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে মামলাটি ফাইনাল রিপোর্ট ট্রু (এফআরটি) দেওয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে মামলার এজাহার, তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লিখিত বিভিন্ন অঙ্কের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আটটি পাম্পের আমদানি ও পরিশোধিত মূল্য, ঠিকাদারের বিল, যন্ত্রাংশ, স্থাপন, কমিশনিং ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয়ের হিসাব নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জিজ্ঞাসা।

অভিযোগটি ছিল—পাম্পের প্রকৃত মূল্য ও প্রকল্পে পরিশোধিত অর্থের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। মামলার এজাহারে প্রায় ৩৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কথা বলা হলেও তদন্ত শেষে দুদক বলেছে, অতিরিক্ত মূল্য বা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—প্রাথমিক অনুসন্ধানে যে ব্যয়ের অসংগতি ও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, তদন্তের পর্যায়ে সেগুলোর ব্যাখ্যা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো? আর বিভিন্ন নথিতে থাকা ব্যয়ের অঙ্কের পার্থক্যই বা কেন?

৭৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ৩৪ কোটি টাকার প্রশ্ন: 

কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন প্রকল্পটি ২০১৬ সালে নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো পাম্প প্রতিস্থাপন করে নতুন পাম্প, প্যানেল বোর্ড, স্কাডা সিস্টেম ও রিমোট সেন্সিং ব্যবস্থাসহ আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় আটটি পাম্প সরবরাহ ও প্রতিস্থাপনের জন্য সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে কাজ দেওয়া হয়। বিভিন্ন নথিতে প্রকল্পের ব্যয় ৭৮ কোটি টাকার বেশি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের এলসির বিপরীতে এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমে আটটি পাম্পের পরিশোধিত ক্রয়মূল্য ছিল ১৭ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

ঠিকাদারের ১৫ শতাংশ লাভ যুক্ত করে এ ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ভ্যাট ও আয়কর বাবদ আরও প্রায় ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা হিসাব করা হয়। অন্যদিকে, পাম্প ক্রয় বাবদ ঠিকাদারকে ৬১ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার ২৮০ টাকা পরিশোধের তথ্যও মামলার নথিতে উঠে আসে। এ হিসাব থেকেই প্রায় ৩৪ কোটি টাকার ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

মামলার অভিযোগ ও পরবর্তী দায়মুক্তি:

দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান বাদী হয়ে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক বিভাগের প্রকৌশলীসহ আট কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের তিন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হয়েছিল, আটটি পাম্পের প্রকৃত মূল্য ও প্রকল্পে প্রদর্শিত মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে এবং এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতি হয়েছে।

কিন্তু পরবর্তী তদন্তে দুদকের অবস্থান পরিবর্তিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাম্পের মূল অংশ জার্মানি থেকে আমদানি করা হলেও বেশ কিছু আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি করা হয়েছে। আমদানি করা অংশ, দেশীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত অংশ, স্থাপন, কমিশনিং, কারিগরি সহায়তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পাম্পের সামগ্রিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করেছে এবং চুক্তি অনুযায়ী পাম্প, স্কাডা সিস্টেম ও রিমোট সেন্সিং প্যানেল বোর্ডের রক্ষণাবেক্ষণও করেছে। এ কারণে অতিরিক্ত মূল্য বা দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

পাম্পের দাম, যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

মামলার নথি অনুযায়ী, আটটি পাম্পের আমদানি ও পরিশোধিত মূল্যের সঙ্গে ঠিকাদারের লাভ ও কর-ভ্যাট যোগ করার পরও প্রকল্পে প্রদত্ত অর্থের সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা যায়।

অন্যদিকে, দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—পাম্পের শুধু মূল অংশ নয়, এর সঙ্গে থাকা বিভিন্ন আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ, স্থাপন, কমিশনিং এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহায়তার বিষয়ও মূল্য নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এখানেই তৈরি হয়েছে মূল প্রশ্ন।

যদি পাম্পের আমদানি মূল্য প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা হয় এবং লাভ-ভ্যাট-করসহ হিসাব কয়েক কোটি টাকা বাড়ে, তাহলে প্রকল্পের মোট পাম্প ব্যয় ৬১ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার ২৮০ টাকায় কীভাবে পৌঁছাল—তার খাতভিত্তিক হিসাব কতটা স্পষ্ট?

আবার প্রকল্পের দরপত্র ও অন্যান্য নথিতে প্রায় ৭৮ কোটি টাকার যে ব্যয়ের কথা রয়েছে, তার সঙ্গে পাম্প বাবদ পরিশোধিত অর্থের পার্থক্যের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাও জনসমক্ষে স্পষ্ট নয়।

ডিপিএম না উন্মুক্ত দরপত্র—আরেক প্রশ্ন

দুদকের অনুসন্ধান-সংক্রান্ত তথ্যে উঠে আসে, কাশিমপুর পাম্প হাউসের আটটি পাম্প প্রতিস্থাপনের জন্য কেএসবি, এনড্রিজ ও উইলো ব্র্যান্ডের প্রস্তাব ছিল।

প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা ডিপিএমের মাধ্যমে কেএসবি পাম্প কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অনুসন্ধান নথিতে উল্লেখ করা হয়। তবে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পাম্প কেনার সিদ্ধান্ত দেয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের কাছ থেকে দর গ্রহণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আটটি পাম্পের জন্য প্রায় ৬৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং প্যানেল বোর্ডের জন্য প্রায় ৮ কোটি ২২ লাখ টাকা—মোট প্রায় ৭৮ কোটি ৪ লাখ টাকার দর দেয়। পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের আলোকে মোট দর আরও বাড়িয়ে প্রায় ৮৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা নির্ধারণের তথ্যও অনুসন্ধান নথিতে রয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় দর নির্ধারণ, পাম্পের ব্র্যান্ড নির্বাচন, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির যৌক্তিকতা এবং পরবর্তী ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এ হান্নান খান জানান, কাশিমপুর পাম্প হাউসের পাম্পগুলোর স্থাপন ২০১৮ সালের জুনে শেষ হয়। তাঁর দাবি, পাম্পগুলো বর্তমানে ভালোভাবেই চলছে এবং এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান করে মামলা করেছিল। পরবর্তীতে দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ায় মামলাটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।

দুদকের দায়মুক্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—

পাউবোর যান্ত্রিক সরঞ্জাম বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী চৌধুরী নাজমুল আলম; পাউবোর পাবনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সাবেক প্রকল্প পরিচালক এস এম শহিদুল ইসলাম;

ঢাকা যান্ত্রিক (পাম্প হাউস) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান; ঢাকা কেন্দ্রীয় যান্ত্রিক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবু তালেব;

ঢাকা যান্ত্রিক (পাম্প হাউস) বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এম গোলাম সরওয়ার;

পাউবোর নকশা সার্কেল-৩ (যান্ত্রিক)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্বাস আলী;

ডিজাইন সার্কেল-১, ঢাকার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল বাছিত;

চাঁদপুর যান্ত্রিক উপবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রুহুল আমিন;

সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল;

চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সৈয়দ আরশেদ রেজা;

মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আব্দুস সালাম।

তবে আদালত ও দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব ব্যক্তি বর্তমানে ওই মামলার অভিযোগ থেকে দায়মুক্ত।

মনু নদ সেচ প্রকল্পটি মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওর এলাকায় অবস্থিত। প্রকল্পের উত্তরে কুশিয়ারা নদী, দক্ষিণ ও পশ্চিমে মনু নদ এবং পূর্বে ভারতের ভাটেরা পাহাড়।

ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে মনু ও ধলাই নদে আকস্মিক বন্যা দেখা দিত। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি এবং নিচু এলাকায় দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এই পরিস্থিতিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালে মনু নদ সেচ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৭৫-৭৬ সালে এবং শেষ হয় ১৯৮২-৮৩ সালে।

কাশিমপুর পাম্প হাউসে জার্মানির কেএসবি ব্র্যান্ডের আটটি এক্সিয়াল ফ্লো প্রপেলার টাইপ পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিটি পাম্পের ক্ষমতা ছিল ১৫০ কিউসেক, অর্থাৎ মোট পাম্পিং ক্ষমতা ১২০০ কিউসেক।

প্রকল্প বাস্তবায়নের পর কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ব্যবহারের পর পুরোনো পাম্পগুলোর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় ২০১৬ সালে ‘মনু নদের সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

দুদকের তদন্তে আসামিদের দায়মুক্তি দেওয়া হলেও প্রকল্পের আর্থিক হিসাব নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, আটটি পাম্পের আমদানি মূল্য, দেশীয়ভাবে তৈরি আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ, স্থাপন, কমিশনিং, কারিগরি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে?

দ্বিতীয়ত, পাম্পের আমদানি মূল্য ও প্রকল্পে প্রদত্ত বিলের মধ্যে যে বড় পার্থক্য, তার পূর্ণাঙ্গ খাতভিত্তিক হিসাব কোথায়?

তৃতীয়ত, উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে ডিপিএম পদ্ধতিতে যাওয়ার প্রাথমিক উদ্যোগের কারণ কী ছিল এবং পরবর্তীতে কী প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়?

চতুর্থত, প্রায় ৭৮ কোটি টাকা এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রায় ৮৪ কোটি টাকার যে দর ও ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়, তার সঙ্গে চূড়ান্ত পরিশোধিত অর্থের পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় কীভাবে হয়েছে?

পঞ্চমত, পাম্পের মূল্য নির্ধারণে স্বাধীনভাবে বাজারদর যাচাই বা তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না?

এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ ও নথিভিত্তিক উত্তর পাওয়া গেলে প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় অনেকটাই দূর হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দুদক তদন্ত শেষে দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই কাউকে দুর্নীতির জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। তবে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত একটি বড় প্রকল্পে বিভিন্ন নথিতে থাকা ব্যয়ের অঙ্কের পার্থক্য এবং প্রাথমিক অভিযোগ ও পরবর্তী তদন্তের ফলাফলের মধ্যে যে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা জনস্বার্থেই প্রয়োজন।

কারণ, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যদি হয় জনগণের অর্থে জনস্বার্থ নিশ্চিত করা, তাহলে সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় হয়েছে—তার হিসাবও হতে হবে সমানভাবে স্বচ্ছ।

সেই জায়গাতেই যেন প্রশ্নটি থেকে যায়—‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ কি শুধু একটি অভিযোগ, নাকি নথিপত্রের আরও গভীর পর্যালোচনায় এর পেছনে অন্য কোনো হিসাবও রয়েছে?

Link copied!