নওগাঁয় মাটির বরাদ্দে ছাই দিয়ে মাঠ ভরাট

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

নওগাঁয় মাটির বরাদ্দে ছাই দিয়ে মাঠ ভরাট

ফাইল ফটো

নওগাঁর মহাদেবপুরে স্কুলমাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দের টাকা নিয়েও মাটির বদলে ছাই দিয়ে মাঠ ভরাটের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে জাহাঙ্গীর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এমন অনিয়ম চললেও অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই! 

এ প্রসঙ্গে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মাটি ভরাট প্রকল্পের বরাদ্দ সম্পর্কে জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, ওই বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে বরাদ্দ করা টাকার অর্ধেকও খরচ করা হয়নি। 

তবে জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রকল্প চেয়ারম্যান এস এম ইব্রাহীম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি প্রকল্পের টাকায় ৮ ট্রাক বালু ফেলেছি। আমি বিনা পয়সায় বয়লারের ছাইগুলো এনে নতুন ভবনের পাশের গর্ত পূরণ করছি। স্থানীয়রা জানান, স্কুল থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে আখেড়া এলাকায় রয়েছে মেসার্স শিউলী রাইস মিল। জাহাঙ্গীর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও পরে সভাপতি হন ওই মিলের মালিক। তার চালকল থেকেই ছাই নিয়ে ফেলা হচ্ছে জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবনের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ছাইগুলো। 

ইতিমধ্যে বিদ্যালয় মাঠের বেশিরভাগ অংশ ছাই দিয়েই ভরাট করা হয়েছে। মাঠের মাঝখানে অল্প কিছু জায়গায় ফেলা হয়েছে বিট বালু। খোলা ট্রাক্টরে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত সড়কে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে পরিবহন করা হয়। পরিবহনের সময় বাতাসে উড়ে ছাইগুলো অন্য যানবাহনের যাত্রীদের শরীরে পড়ে। সড়কের দুই পাশেও পড়ে থাকছে এসব ছাই। ছাইগুলো বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলায় সেখান থেকেও বাতাসে উড়ছে ছাই। ফলে সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বয়লারের উড়ন্ত ছাই দূষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা। 

তারা জানান, রাস্তায় চলাচলের সময় বয়লারের ছাই চোখে পড়ে অনেকেই দুর্ভোগের শিকার হন। কারও কারও চোখ নষ্টও হয়ে গেছে। এ অবস্থায় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে ছাই ফেলা কোনোক্রমেই ভালো হচ্ছে না। তারা ওই বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলা ছাই সরিয়ে মাটি দিয়ে ভরাটের দাবি জানান। 

Link copied!