এক স্কুল ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা বকুল মিয়া সহ আট জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে নেত্রকোণা আদালতে পাঠিয়েছে। জানা যায়, পৌর এলাকার বাসিন্দা এই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্ণগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে মঙ্গলবার কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বিএনপি নেতা বকুল মিয়াকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত নামা আরো তিন থেকে চারজনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেছে। পুলিশ মামলার এজাহার ভুক্ত দ্বিতীয় আসামি মো: আবু মিয়াকে বুধবারে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে পাশবিক নির্যাতনের শিকার বর্তমানে দশম শ্রেণির এই ছাত্রীর সম্পর্কে বকুল মিয়ার আত্মীয়। গত ২০২২ সালে ২০ নভেম্বর এই ছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ এবং ধষর্ণের ভিডিও ধারণ করা হয়। তখন এই ছাত্রীটি ষষ্ঠ শ্রেণিত পড়তো। ক্ষতিগ্রস্থ ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের দাবি ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক
যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ওই ছাত্রীকে একাধিক বার ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠেছে। পরিবারের সদস্যরা আরো জানান গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রী চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে যায়। সে সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্র পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ওই স্কুল ছাত্রীকে বকুল মিয়ার জিজ্ঞাসাবাদ করলে কান্না জড়িত কণ্ঠে তাকে নির্যাতনের বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে স্বীকার করে। এরপর ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামে একটি বেসকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীটির পরিক্ষা-নীরিক্ষার পর সে ছয় মাসের অন্তঃস্বতা বলে জানান চিকিৎসগণ। স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগর মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি করে যার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তার নাম বকুল মিয়া। তিনি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে দলীয় সূত্র জানায়। এব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার জানান, দলীয় শৃঙ্গলা ভঙ্গ এবং অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দলের সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান এই মামলার তদন্ত চলছে। এজাহার ভুক্ত আবু মিয়া কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে আবু মিয়াকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মামলার প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব পাওয়া যায় নি।

আপনার মতামত লিখুন :