হাটহাজারীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৭ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার

কামাল উদ্দীন চৌধুরী , ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

হাটহাজারীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৭ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িত চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। গত সোমবার রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারীর ভুলিয়াপাড়া ও খন্দকিয়া, বায়েজিদ বোস্তামী থানার মাজার এলাকা এবং খুলশী থানার দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।

সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’ বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় হাটহাজারী থানা পুলিশ তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং পূর্বে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করত।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের নেতৃত্বে হাটহাজারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মেদসহ পুলিশের একটি দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) এবং নুরুল আলম (৪০)। তাদের কাছ থেকে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিদেশি নম্বরসহ চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি, চাঁদাবাজির দুটি, অপহরণের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি, ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং হত্যাচেষ্টার একটিসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। মো. মানিকের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া কামরুল হাসান, মো. রিকু, মো. তরিকুল ইসলাম ও আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটিসহ তিনটি করে মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চক্রটির অন্যান্য সদস্য ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!