ডিআইইউ প্রতিনিধি: ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। বিজ্ঞ জেলা নির্বাহী আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মামলার বাদী সাংবাদিক কালাম মুহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় বাড্ডা থানায় এসব আসামিকে বিবাদী করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জানা গেছে, মামলার এজাহার অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে। এছাড়া অন্য আসামিরা হলেন একই হলের বাধন, মুরাদ পাটোয়ারী, জোবায়ের পাটোয়ারী, প্রত্যয় ও মিনহাজ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে বাড্ডা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এসব আসামির বিরুদ্ধে লিখিত ও ভিডিও জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁরা জানিয়েছেন, সেদিন মুরাদ ও জোবায়ের পাটোয়ারীর ইন্ধনেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগে মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছেন প্লাবন। তবে তাঁর সঙ্গে আত্মীয়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান।
এ ছাড়া প্লাবন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন এবং ওই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাগিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কালাম মুহাম্মদ বলেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়া এবং নিরাপত্তার আবেদন করার পরও প্রক্টর আবুল কালাম আজাদ সাহেব তাঁকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর অদক্ষতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে হলে এই বিবাদীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে অত্যাচার করে আসছেন।
তিনি বলেন, “আমরা ইনসাফ চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তথা প্রক্টরের এই অদক্ষতার কারণেই আজকের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুরো বিষয়টি আমি আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।”

আপনার মতামত লিখুন :