ঢাকার কেরানীগঞ্জে চাঁদা দাবি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি সেলুনে ঢুকে মো. ফরহাদ হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকার রাজ সেলুনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল চারটার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন ফরহাদ। সেখানে ব্যবসা করতে হলে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাঁর কাছে এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁদের সঙ্গে ফরহাদের বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
ফরহাদের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকালে মহিরগোলা এলাকায় মাছ বিক্রি শেষে দুপুরের দিকে কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে ফিরে আসেন ফরহাদ। পরে চুল কাটানোর জন্য স্থানীয় রাজ সেলুনে যান। সেখানে কয়েকজন যুবক তাঁর ওপর হামলা চালায়। সেলুনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ৩টা ৭ মিনিটের দিকে তিন যুবক সেলুনে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের মাথায় ক্যাপ ছিল। সেলুনে ঢোকার আগেই একজন পকেট থেকে পিস্তল বের করে ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে সেলুনে থাকা অন্য ব্যক্তিরা দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যান।
এরপর অপর দুজন কোমর থেকে ধারালো অস্ত্র বের করে সেলুনের ভেতরে ঢোকেন। এ সময় ফরহাদ লুঙ্গি পরা অবস্থায় সেলুন থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একজন পেছন থেকে তাঁর লুঙ্গি ধরে ফেলেন। তখন অপর একজন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা ফরহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কেরানীগঞ্জ থেকে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদ হোসেনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, ঘটনার সূত্রপাত রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে হামলাকারীরা আরশিনগরে এসে ফরহাদকে হত্যা করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, হামলাকারী ও নিহত ফরহাদ দুই পক্ষেরই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এদিকে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফরহাদ ‘পাটালি গ্রুপ’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের তথ্য রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।নিহত ফরহাদ কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার মেম্বার গলিতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :