চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে হামলা ও ২৩ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য মো. রাকিবুল হাসান ব্রাইটসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে দর্শনা থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন দর্শনা পৌর বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হুমায়ুন এবং কলেজ ছাত্রদলের নেতা মোহাম্মদ আমিন। এ ঘটনায় সাগর নামের এক যুবদল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দর্শনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাকিবুল হাসান ব্রাইটের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দর্শনা শহর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাকিবুল হাসান ব্রাইটের পিতা ও বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে একটি বিশেষ মহল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে। আমার ছেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং এর পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :