বিল্লাল হোসেন মানিক , ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সাবেক সমবায় কর্মকর্তা এবং বর্তমানে তারাকান্দা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক ও দুদক বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, মো. কামরুজ্জামান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ০৭ বছর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সাথে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা অর্জন করেছেন। এখন তিনি
বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে বদলি হয়ে ভালো পোস্টিং নিতে বগড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের নাম ভাঙিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী শাসন আমলে সাবেক প্রতিবন্ধী শরীফ আহমেদের আস্থাভাজন ছিলেন। এখন তিনি বিএনপির নেতা কর্মীদের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি সদরে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে কামরুজ্জামান ময়মনসিংহ নগরী ও আশপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পদ তার নিজের, পরিবারের সদস্যদের অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ময়মনসিংহ নগরীর কালিঝুলি গোলাপজান রোড এলাকার স্বপ্ন টাওয়ারের ১৪ তলা ভবনে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট, মাসকান্দা এলাকায় প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা, এবং নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকায় আরও কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পদ, আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা এবং আরও কিছু ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য সম্পদে যৌথ মালিকানা বা বিনিয়োগ থাকার অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থাকার বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বদলি ও প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রায় ১১ কোটি টাকা দুর্নীতি এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে অনুসন্ধান বা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ তথ্যেরও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন বলে আবেদনকারী জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে গত কয়েক বছরের চাকরির রেকর্ড, পদায়ন ও বদলির তথ্য পর্যালোচনা, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণ অনুসন্ধান এবং বদলি ঠেকাতে কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাব বা প্রশাসনিক অনিয়ম ঘটেছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কামরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংগ্রহ, অভিযোগে উল্লিখিত ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা ও ক্রয়মূল্য যাচাই, সম্পদ ক্রয়ের অর্থের বৈধ উৎস অনুসন্ধান এবং ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগ আইনানুগভাবে যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে তার প্রকৃত মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ রয়েছে কি না এবং দায়িত্ব পালনকালে কোনো আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন এবং কোনো ব্যক্তিকে পূর্বেই দোষী সাব্যস্ত করা আবেদনের উদ্দেশ্য নয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণই তার আবেদনের মূল উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আমার মামার বন্ধু, বগুড়া বিএনপির নেতা। তাই তাকে দিয়ে বদলির তদবির করিয়াছি।

আপনার মতামত লিখুন :