আমতলীতে ধানের বীজে প্রতারণা: নিঃস্ব দুই শতাধিক কৃষক পরিবার

মিথুন কর্মকার , আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

আমতলীতে ধানের বীজে প্রতারণা: নিঃস্ব দুই শতাধিক কৃষক পরিবার

বরগুনার আমতলী উপজেলার ছারিকাটা এলাকায় দুই শতাধিক কৃষক নিম্নমানের বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও জমিতে ধানের ফলন না আসায় কৃষকরা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। আউশ মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় আমন চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রতারিত কৃষকরা অভিযুক্ত বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, গত এপ্রিল মাসে তারা আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে ব্রি-৯৮ জাতের ধান চাষের জন্য বীজ ক্রয় করেন। ব্রি-৯৮ জাতের ধান সাধারণত ১১০ দিনে ঘরে তোলার উপযোগী হয়। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও গাছে ফলন আসেনি। কৃষকদের দাবি, ডিলার তাদের ব্রি-৯৮ জাতের কথা বলে অন্য কোনো নিম্নমানের ধান গছিয়ে দিয়েছেন।

কৃষক মো. দুলাল হাওলাদার জানান, তিনি আট একর জমিতে এই ধান রোপণ করেছিলেন। ধারদেনা করে চাষাবাদ করলেও এখন ফসল না পাওয়ায় তিনি পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। একই অভিযোগ করেন কৃষক দেলোয়ার গাজী, মো. রনি আহমেদ ও আব্দুল আজিজ। তারা জানান, আউশ ও আমন—উভয় মৌসুমেই তারা ধান চাষ করেন। কিন্তু এবার বীজ প্রতারণার কারণে কোনো মৌসুমেই ধান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এতে কৃষকদের কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার বলেন, ‘আয়ান সিডের মোড়কে আমি কোনো জাতের ধান পরিবর্তন করিনি। কোম্পানি যেভাবে সরবরাহ করেছে, আমি সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি। এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সরেজমিনে তদন্ত করবেন।

ডিলার যদি বিধি ভঙ্গ করে বীজ বিক্রি করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Link copied!