মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত শয্যায় জায়গা হচ্ছে না। ফলে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনেরা। হাসপাতালের তিন ও চারতলার শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যার পাশাপাশি মেঝেতেও বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও মা-বাবার কোলে অসুস্থ শিশু, কোথাও মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে কেউ। ওয়ার্ডজুড়ে শিশুদের কান্না, স্বজনদের উদ্বেগ এবং রোগীদের সেবা দিতে নার্সদের ব্যস্ততায় এক চাপপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত তিন দিনে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৩০০ শিশু। হঠাৎ করে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত শয্যা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। রোগীর চাপ বাড়ায় নার্সদের ওপরও অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়েছে। নার্সরা জানান, প্রতিদিন যেভাবে শিশু ভর্তি হচ্ছে, তাতে রোগীদের সেবা দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তারপরও তাঁরা যথাসাধ্য সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং নতুন করে ভোগান্তি তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনেরা। তাঁদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডে গরম বেড়ে যায়। অসুস্থ শিশুরা অতিরিক্ত ঘেমে অস্বস্তিতে পড়ে। বিশেষ করে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে থাকা শিশুদের নিয়ে তখন স্বজনদের বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর স্বজন সাদিয়া আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় গরমে শিশুরা ঘেমে যাচ্ছে। হাসপাতালে এসে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। সোনিয়া খাতুন নামে আরেক স্বজন বলেন, এত গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেও যদি গরমে থাকতে হয়, তাহলে স্বজনদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।
অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থানরত তৌহিদ বলেন, তাঁর মেয়ে ঠান্ডা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। এতে শিশুরা আরও কষ্ট পাচ্ছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। শিশু রোগীর চাপের মধ্যেও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে অতিরিক্ত রোগীর কারণে শয্যা সংকট তৈরি হওয়ায় মেঝেতেও শিশুদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। রোগীর চাপ মোকাবিলায় বাড়তি শয্যা ও প্রয়োজনীয় জনবল ব্যবস্থার পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরা।
তবে শিশুদের অসুস্থতার জন্য শুধু গরম বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, শিশুদের অসুস্থতার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাজিয়া আক্তার বলেন, শিশু বেশি ঘামলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন খাওয়াতে হবে। গরু বা ছাগলের দুধসহ কিছু খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশু রোগীর বাড়তি চাপ কতদিন থাকবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, রোগীর চাপ সামাল দিতে শিশু ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা ও জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন :