দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প গ্রহণ না করা, বিদ্যমান প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে মোংলায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে মোংলার কানাইনগর পশুর নদীর পাড়ে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’ এবং ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ‘গ্লোবাল উইক অব অ্যাকশন’-এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন (ইউএনজিএ ৮১) এবং কপ-৩১-এর প্রাক্কালে বিশ্বব্যাপী চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এই মানববন্ধন করা হয়।
সকাল ১১টায় আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ। এতে বক্তব্য রাখেন ধরা’র নেত্রী অসীমা মন্ডল ও বৃষ্টি সরকার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের সংগঠক রেশমা খাতুন, জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের মেহেদী হাসান প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন, ন্যায়ভিত্তিক ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সুন্দরবন বিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির মাধ্যমে কতিপয় ব্যবসায়ী, আমলা ও রাজনীতিবিদ অলিগার্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক খাতে লুটপাট ও চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ে লুটপাটতন্ত্র ও চোরতন্ত্র রুখে দিয়ে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :