কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রবি মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শত শত কৃষক সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেছেন। এ সময় সারের দাবিতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলারের অপসারণ দাবি করেন কৃষকরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সহায়তায় অবরুদ্ধ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে কচাকাটা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গাবতলা বাজার এলাকায় বিসিআইসির পরিবেশক (ডিলার) মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বল্লভেরখাস ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অবরুদ্ধ ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বস্ত করলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবি মৌসুমে আমন, বেগুন ও বিভিন্ন সবজি চাষাবাদের পাশাপাশি ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ শুরু হয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। শুক্রবার সকালে গাবতলা এলাকার নির্ধারিত ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে সার বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক শ কৃষক সেখানে জড়ো হন। সার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি ধরলেও কিছুক্ষণ পরই বরাদ্দকৃত সার শেষ হয়েছে জানিয়ে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কচাকাটা থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কৃষক ওমর ফারুক জানান, এক সপ্তাহ আগেও কচাকাটায় সারের জন্য আন্দোলন হয়েছিল। সে সময় সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং সংকট আরও বাড়ছে। কৃষক মজিবর ও আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, সারের জন্য চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ডিলারের কাছে গেলে সার নেই বলে জানানো হয়, অথচ কৃষি কর্মকর্তারা দাবি করেন পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে।
মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিকের প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। আজ দুটি পয়েন্ট থেকে সার বিতরণ করার কথা ছিল। একটি পয়েন্টের সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সার না পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন। আমরা অন্য পয়েন্ট থেকে কৃষকদের চাহিদামতো সার দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ কৃষকদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাই সার পাবেন। সার বিতরণে অনিয়ম পাওয়া গেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাঙ্গা ও রামখানা ইউনিয়নে সার না পাওয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন কৃষকরা।

আপনার মতামত লিখুন :