বগুড়া উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শহর

মোঃ আব্দুল মোমিন পিয়াস , বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী, ২০২৫, ০৫:১৬ পিএম

ছবি: প্রতিদিনের কাগজ

বগুড়া নামটি শুনলেই প্রথমে মনে আসে লোভনীয় দই-মিষ্টির কথা। তবে এটাই বগুড়ার মূল পরিচয় নয়। বগুড়াকে বলা হয় ইতিহাস আর ঐতিহ্যের শহর। বগুড়া জেলা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক জেলা। আয়তনের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম জেলা এবং জনসংখ্যার দিক থেকে পঞ্চম বৃহত্তম জেলা। খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে বগুড়া মৌর্য শাসনাধীনে ছিল। মৌর্য এর পরে এ অঞ্চলে চলে আসে গুপ্তযুগ। এরপর শশাংক, হর্ষবর্ধন, যশোবর্ধন পাল, মদন ও সেনরাজ বংশ। ১৩শ শতাব্দীতে, এলাকাটি মুসলিম শাসনের অধীনে আসে। 

মুসলিম শাসক নাসিরুদ্দিন বগরা খান ১২৭৯ থেকে ১২৮২ সাল পর্যন্ত বাংলার গভর্নর ছিলেন। তার মৃত্যুর পর, তার নামে এলাকাটির নামকরণ করা হয় এবং তখন থেকেই এটি বগুড়া নামে পরিচিত। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে এক ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ গড়ে উঠেছিল এই বগুড়ায়। প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধনের বর্তমান নাম মহাস্থানগড়, যা বগুড়া জেলায় অবস্থিত এবং এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে পরিচিত। বগুড়া কে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও রাজধানী বলা হয় কারণ উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জেলা যেমন গাইবান্ধা, রংপুর, কুরিগ্রাম, লালমনিরহাটে যেতে হলে বগুড়ার উপর দিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও বগুড়া শিক্ষানগরী নামে পরিচিত। বগুড়া পৌরসভা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পৌরসভা। বর্তমানে বগুড়া সার্ক এর সংস্কৃতি রাজধানী। বগুড়া জেলা ১২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত যথাক্রমে, কাহালু, বগুড়া সদর, সারিয়াকান্দি,  শাজাহানপুর, দুপচাচিঁয়া, আদমদিঘি, নন্দিগ্রাম, সোনাতলা, ধুনট,  গাবতলী, শেরপুর, শিবগঞ্জ।

বগুড়ায় জন্ম হয়েছে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রফুল্ল চাকী, কথাসাহিত্যিক রোমেনা আফাজ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, ভাষা সৈনিক গাজীউল হক, ওস্তাদ আলাউদ্দীন সরকার, কবি মহাদেব সাহা, ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অভিনয় শিল্পী অপু বিশ্বাসের । বগুড়ায় সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও অনন্য এক দৃষ্টান্ত রয়েছে। ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জগতে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনটিরই অভাব নেই। আছে কম খরচেই ভালো টিউটর। এছাড়াও কোচিং সেন্টারতো আছেই। যেখানে বেশ ভালো গাইড করানো হয়।

অন্য জেলাগুলো থেকে যাঁরা বগুড়ায় চাকরি করতে আসেন এবং কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন সেখানে থাকেন তাঁদের একটা বড় জনগোষ্ঠীই বগুড়ার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান। এছাড়াও বগুড়ায় যাঁরা চাকরি করেন তাঁরা বেশ মজাতেই থাকেন। কারণ সেখানে সস্তায় ভাত-তরকারি পাওয়া যায়। আছে আনন্দ-বিনোদনের ব্যবস্থা  বগুড়ায়  রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান যেমন মহাস্থানগড়, বাবা আদমের মাজার ও আদমদিঘীর প্রখ্যাত দিঘী, ঐতিহাসিক যোগীর ভবনের মন্দির, বেহুলা লক্ষিণদ্বর (গোকুল মেধ)। তাছাড়া সাউদিয়া সিটি পার্ক, পাঁচপীর মাজার কাহালু, সারিয়াকান্দির পানি বন্দর, বাবুর পুকুরের গণকবর, জয়পীরের মাজার, সান্তাহার সাইলো, দেওতা খানকাহ্ মাজার শরিফেও পর্যটকদের ঢল নামে।

বগুড়া শহর হতে ১১ কিলোমিটার পূর্বদিকে ইছামতি নদীর তীরে পোড়াদহ নামক স্থানে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে প্রতি বছর পোড়াদহ নামক স্থানে পোড়াদহ মেলা হয়ে আসছে যা বগুড়া জেলার ঐতিহ্যের অংশ হিসাবে ধরা হয়। শুধু ইতিহাস ও ঐতিহ্য নয়  শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর হিসেবে বগুড়ার কদর পুরো দেশ জুড়ে।

Link copied!