আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের নেয়ামতপুর ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত জেসি এগ্রো ফার্মে চলছে কোরবানির পশু প্রস্তুতের ব্যস্ততা। খামারটিতে বর্তমানে ৪০০টিরও বেশি গরু ও মহিষ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬০টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে খামার কর্তৃপক্ষ।
খামার সূত্রে জানা যায়, খামারের সবচেয়ে বড় ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৮০০ কেজি। গরুটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া খামারে থাকা একটি মহিষের ওজনও প্রায় ৮০০ কেজি, যার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা খামারে এসে আগাম বুকিং দিয়ে যাচ্ছেন। ঈদের দুই-এক দিন আগে তারা নিজ দায়িত্বে পশু খামার থেকে নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আলহাজ মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তাদের ফার্মে বর্তমানে ৪০০টিরও বেশি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ২০০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬০টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে পশুখাদ্য ও ফিডের উচ্চমূল্যের কারণে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ভারত থেকে পশু না এলে কিছুটা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফার্মের ম্যানেজার মো. রিয়াদ বলেন, খামারে বর্তমানে ৮ জন নারী কর্মী ঘাস চাষের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া ৮ জন পুরুষ কর্মচারী সার্বক্ষণিক পশুর পরিচর্যা ও খামারের বিভিন্ন কাজে দায়িত্ব পালন করছেন। নারী কর্মীরা জমিতে ঘাস উৎপাদনের কাজ করেন এবং পুরুষ কর্মীরা খামারের পশুর পরিচর্যা করেন। আমাদের খামারের গরুর চাহিদা অনেক বেশি। প্রাকৃতিক খাদ্যে লালন-পালন করায় অধিকাংশ পশুই আগাম বিক্রি হয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত মোহাম্মদ রাকিব মিয়া বলেন, আমরা এই ফার্মে ৮ জন পুরুষ কর্মচারী কাজ করি। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। আমাদের মালিক অনেক বড় মনের ও দানশীল মানুষ। তাঁর বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে এই ফার্মে কাজ করে আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছি। এখান থেকে উপার্জন করে আমাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে পারছি।
কোরবানির পশু কিনতে আগ্রহীদের জন্য খামারে আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামার কর্তৃপক্ষ।
আপনার মতামত লিখুন :