সারিয়াকান্দির যমুনা তীরে কাশফুলের সমারোহ, দর্শনার্থীদের ভীড়

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০২৫, ০৫:০৩ পিএম

ছবি- প্রতিদিনের কাগজ

রাশেদ, সারিয়াকান্দি, বগুড়া: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা তীরের বিভিন্ন চলাঞ্চলে ফুটে আছে শুভ্র কাশফুল। শরতের নীল আকাশজুড়ে সাদা মেঘের ভেলা আর নীচে আলাদা সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে কাশফুল। কাশফুলের শুভ্রতার ছোঁয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছেন বগুড়া সহ আশেপাশে থেকে আসা পর্যটকরা। ফুলের সাথে নিজেকে ক্যামেরাবন্দী করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা ভীড় করছেন সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর তীরে।

বগুড়া সারিয়াকান্দির ১২ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টি ইউনিয়ন যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ার ফলে উপজেলার বিশালাকার চরাভূমি রয়েছে। এসব চরাভূমির উপরে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ। নীল আকাশের নীচেই ফুটে রয়েছে সারি সারি কাশফুল। যা প্রখর রোদের সাথে মিতালি করে এক ভিন্ন ধারার সৌরভ ছরাচ্ছে। যে সৌন্দর্য আকৃষ্ট করছে প্রকৃতি প্রেমিদের। উপজেলার চরাঞ্চলে বিশালাকার কাশফুলের বাগান রয়েছে। সেখানে যেতে হয় নৌকাযোগে। তবে উপজেলার কালিতলা গ্রোয়েন, প্রেম যমুনার ঘাট এবং মথুরাপাড়া গ্রোয়েনবাঁধের সামনে জেগে ওঠা চরেও ফুটেছে কাশফুল। এসব পয়েন্টে পায়ে হেটেই যাতায়াত করা যাচ্ছে অনায়াসে। তাই পর্যটকরা এসব পয়েন্টে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং নিজেকে কাশফুলের সাথে ক্যামেরাবন্দী করতে ভীড় জমাচ্ছেন প্রতিনিয়নত। প্রতিদিন এসব পয়েন্টে শতশত তরুন-তরুণীদের আগমন ঘটছে।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর যমুনা বক্ষে জেগে ওঠা চর কাজলা, বাটিয়া, শালুকা, কুড়িপাড়া, পাকুরিয়া, বাগবেড়, দিঘলকান্দি, মথুরাপাড়া, নাড়াপালাসহ বিভিন্ন কাশবনে শ্বেত-শুভ্র কাশফুল মুগ্ধতা ছড়িয়ে বাতাসের দোলায় ঢেউ খেলে যাচ্ছে। কাশফুল শুধু মুগ্ধতাই ছড়ায় না, এর অর্থনৈতিক নানা দিকও রয়েছে। কাশফুল ও এর পাতা মাটিতে ঝরে জৈবসার তৈরি করে, যা জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। সবুজ কাশ গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। কাশফুলের বাগানেই উপজেলার মহিষের বাথানের খাবারের একমাত্র অবলম্বন। প্রতি বছর শরৎকাল এলেই যমুনার তীরে জন্ম নেয়া এসব কাশফুল নতুন করে প্রাণ এনে দেয় চরে। কাঠখোট্রা বালুচরে এ যেন এক নতুন সৌরভ। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে দোল খায় সাদা কাশফুল, বাতাসে দুলে দুলে জানান দেয় ঋতুর আগমনবার্তা। সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়তেই কাশফুলগুলো ঝলমল করে উঠে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে।

পৃথিবীর ৪টি প্রধান ঋতুর একটি হচ্ছে শরৎকাল। শরতে সাদা কাশফুল আর শিউলির আধিপত্য ছাড়াও ফোটে আরও অনেক সহচরী ফুল। তীব্র গরম আর কাঠফাটা রোদে ময়ূরের মতো কাশফুলের পালকের অপরূপ সৌন্দর্য মন জুড়ায় সব বয়সী মানুষের। উপজেলার যমুনা নদীর ধারে, চলাঞ্চলের মাঠে-ঘাটে শোভা পাচ্ছে কাশফুল। মূলত ছন গোত্রীয় এই ঘাস কমবেশি দেশের সব অঞ্চলেই দেখা যায়। কাশফুল পালকের মতো নরম এবং রং ধবধবে সাদা। গাছটির চিরল পাতা খুব ধারালো, খসখসে। গ্রামে এগুলো জ্বালানি, ঝাড়ু এবং ঘর ও পানের বরজের ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কাশফুলের গাছগুলো প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম হয়। বেড়ে ওঠার সময় চোখে না পড়লেও ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ হয়।

উপজেলার পৌর এলাকার সিরাজুল ফুল বলেন, কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এ উপজেলায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষরা বিভিন্ন উপজেলা থেকে বেড়াতে আসেন। বিভিন্ন বয়সী এসব মানুষের মধ্যে তরুন-তরুনীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে এ ফুল বেশিদিন থাকে না। ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই ফুলগুলো বাতাসের সাথে উড়ে যায়। অর্থাৎ কয়েকদিন পরেই এ ফুল আর দেখা যাবে না।

সারিয়াকান্দির ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, কাশফুল এবং যমুনা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে বগুড়া জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সারিয়াকান্দিতে পর্যটকদের আগমন ঘটে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। তারা নির্বিঘ্নে এ উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের সৌন্দর্য উপভোগ করে নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফিরছেন।

Link copied!