নির্বাচন সামনে: মাঠ পুলিশে জামায়াতপন্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়নে মরিয়া প্রভাবশালী সিন্ডিকেট

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৫ পিএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে জামায়াতপন্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়নের তৎপরতা চলছে এমন অভিযোগে ক্ষোভে টগবগ করছে পুলিশ প্রশাসন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এবং পুলিশের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গতকাল বিকাল ৪.৩০ মিনিট থেকে  রাত গভীর পর্যন্ত গোপন বৈঠকে বসে পুলিশ সদর দফতরের বিদায়ী একজন ডিআইজি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের কিছু কর্মকর্তা একটি বিশেষ তালিকা প্রস্তুত করেছেন। ওই তালিকায় রয়েছে দেশের ৬৪ জেলার এসপি, অতিরিক্ত এসপি, এএসপি ও ওসি পর্যায়ের পদে রদবদলের নাম। 

তাদের লক্ষ্য নির্বাচনের আগেই মাঠপর্যায়ের প্রভাবশালী অবস্থান জামায়াতপন্থী কর্মকর্তােদের হাতে তুলে দেওয়া। এই বিষয়ে ৩৫ হেয়ার রোড,ঢাকা ঠিকানায় বিদায়ী ডিআইজি (প্রশাসন) কাজী মোঃ ফজলুল করিমের উপস্থাপনায় ফাইল আলোচনা হবে মর্মে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা যায়,  বিদায়ী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং দুর্নীতির অভিযোগে দুদক অনুসন্ধান করছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। 

সূত্র বলছে এক সিনিয়র সচিব এই পরিকল্পনার রাজনৈতিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে সরকারের গোয়েন্দা দফতর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছে।

বিএনপি বা ছাত্রদল সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা পেশাদার ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের সরিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পাঠানো হচ্ছে।

ইতোমধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ড. আশরাফুর রহমান এবং ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ফারুক আহমেদের বদলির ঘটনা বাহিনীর ভেতরে প্রশ্ন তৈরি করেছে। কর্মকর্তাদের মতে এ সিদ্ধান্ত পুলিশের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর আঘাত।

এদিকে সদর দফতরে সিনিয়র কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করে জুনিয়রদের দায়িত্ব অগ্রাধিকার পাওয়ায় হতাশা আরও গভীর হয়েছে। অনেকের মতে আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জামায়াতপন্থী সিন্ডিকেট শক্ত অবস্থান নেওয়ার কৌশলই এটি। যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (অব.) লে. জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম আশ্বস্ত করে বলেছেন নির্বাচনে পুলিশ এমন মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হবে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে গোপন রদবদল ও বিতর্কিত পদায়নের মধ্য দিয়ে যদি একটি প্রভাবশালী চক্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাহলে কীভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হবে?

Advertisement

Link copied!