কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত সাবেক ওসি আল হেলাল মাহমুদুকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের বোন সাফিয়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশ প্রধানের কাছে তিনটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অভিযোগে সাবেক ওসি মনিরুল ইসলাম, সাবেক ওসি আল হেলাল মাহমুদ এবং ভয়ংকর হিসেবে পরিচিত এসআই জাহিদুল ইসলামুএর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি ও সাধারণ জনগণের ওপর নিপীড়নের গুরুতর তথ্য তুলে ধরা হয়। পুলিশ প্রধানের নির্দেশে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তদন্তের জন্য। ইতোমধ্যে তিনি ভুরুঙ্গামারীতে এসে সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্য ও তথ্যুউপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছেন।
এসআই জাহিদুল: হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের 'কুখ্যাত কর্মকর্তা': ভুরুঙ্গামারী থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ তিনি সাধারণ মানুষকে নিয়মিত হয়রানি করেন, ফৌজদারি মামলায় ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজস্ব দখলদারিত্ব তৈরি করেছেন। স্থানীয়রা তাকে থানার “হয়রানিবাজ কর্মকর্তা” হিসেবেই চেনেন।
সাংবাদিক গ্রেফতারের পর ফাঁসতে শুরু দুর্নীতির চিত্র: দুই মাস আগে ভুরুঙ্গামারীর সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে সাজানো মামলায় গ্রেফতার করা হলে এ ঘটনা ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করে।
এর পরপরই বেরিয়ে আসতে থাকে ওসি আল হেলাল ও এসআই জাহিদুলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তৃত চিত্র।
বদলি ও তদন্তে এলাকায় স্বস্তি: স্থানীয়দের অভিযোগ—ওসি আল হেলাল একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে ভুরুঙ্গামারী থানাকে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল করে রেখেছিলেন। লুটপাট, হয়রানি, স্বেচ্ছাচারী আচরণ ও পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার করতেন। এই পরিস্থিতিতে তার রাজশাহীতে বদলি হওয়াকে স্থানীয়রা স্বস্তি হিসেবেই দেখছেন। পাশাপাশি তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর কারণে এলাকায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে আর কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ না করে তুলতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :