কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার তৎকালীন ওসি আল হেলাল মাহমুদ সাংবাদিক নির্যাতন, মামলা বাণিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অবশেষে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছিলেন দৈনিক গণকণ্ঠের সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের পরিবার।
অভিযোগ রয়েছে, ওসি আল হেলাল মাহমুদ সাজানো পাঁচটি মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখান। এসব মামলার কারণে আনোয়ার হোসেন কয়েক মাস ধরে কারাবন্দি আছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওসি ও তার ঘনিষ্ঠ এসআই জাহেদুল ইসলামের ভয়ভীতি ও নির্যাতনের কারণে তারা দুই মাসের বেশি সময় নিজ বাড়িতে থাকতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, এসআই জাহেদুল নিয়মিত তাদের হুমকি দিতেন এবং মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে আনোয়ার হোসেনের পরিবার এসআই জাহেদুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশ প্রধান বরাবরে তিনটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন।
এদিকে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ–এর চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত আবেদন করলে সংগঠনটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ওসি আল হেলাল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে স্পষ্টভাবে বলেন“আপনারা পত্রিকায় নিউজ করেন, আমার কিছুই হবে না।
পরবর্তীতে একটি প্রতারক চক্রের প্ররোচনায় তিনি সংগঠনের চেয়ারম্যান ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক নাগরিক সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেন। তবুও তিনি ধৈর্য ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে যান। পরপর চারটি তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরই কর্তৃপক্ষ ওসি আল হেলাল মাহমুদকে ভুরুঙ্গামারী থেকে সরিয়ে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের তদন্ত চলছে।
এদিকে প্রতিদিনের কাগজে সংবাদ প্রকাশের ক্ষোভে ওসি আল হেলাল মাহমুদ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি তৈরি করে সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে হুমকি দেন—তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এঘটনায় খায়রুল আলম রফিক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এছাড়া তিনি আগামীকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আরেকটি অভিযোগ জমা দেবেন বলে জানান।
সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক আরও জানান—সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের পরিবার থেকে ওসি আল হেলাল মাহমুদ মোট ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং কয়েক দফায় ৫ লাখ টাকা নেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিকরাও তার বিরুদ্ধে পৃথক অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানালে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ওসি আল হেলাল মাহমুদকে বদলি করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে ভুরুঙ্গামারী এলাকায় সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ, সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :