ইয়াবা সিন্ডিকেটের অভিযোগে ভাইরাল এসআই ঈশান এবার উখিয়া থানায়

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:০১ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ লেনদেন, অনিয়ম ও বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এসআই ঈশানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তাকে আবার গুরুত্বপূর্ণ উখিয়া থানায় পদায়ন করেছেন সাবেক এসপি সাইফুদ্দিন শাহীন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যে কর্মকর্তা প্রত্যাহার হলেন, তিনি কীভাবে এত দ্রুত উখিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেলেন? ঘুষ–অনিয়মে কুখ্যাত এসআই ঈশান: চকরিয়া থানায় দায়িত্বকালে প্রত্যাহার হওয়া ওসি মনজুর কাদের ভুঁইয়ার ঘুষ বাণিজ্যের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এসআই ঈশান। মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

স্থানীয়দের অভিযোগ—চকরিয়ায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় তাকে ‘ইয়াবা গুরু’ হিসেবেও ডাকা হতো। সেই বিতর্কিত কর্মকর্তা এবার উখিয়া থানায় পদায়ন হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে জনমনে। এ ছাড়া সাংবাদিক অপহরণ মামলায় তিনি দুই নম্বর আসামি হিসেবেও আলোচনায় রয়েছেন। ওই মামলার পর সংশ্লিষ্ট কিছু পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হলেও অনেকেই জেলার বিভিন্ন থানায় থেকে তাদের পুরনো অপকর্ম অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

৩ লাখ টাকায় উখিয়ায় পোস্টিং? স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে উখিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার পদ পেয়েছেন এসআই ঈশান। তদন্তাধীন অবস্থায় তাকে এভাবে দায়িত্ব দেওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উখিয়া থানা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা—“তদন্তের মুখে থাকা এই কর্মকর্তা কীভাবে আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন?”

এসপি নিজের বিবেচনায় পদায়ন দিয়েছেন’ — এসআই ঈশান: এসআই ঈশান বলেন, “আমাদের বসিয়ে রাখলে তো চলবে না। এসপি স্যার নিজেই আমাকে পোস্টিং দিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার সংকট আছে। সবকিছু তিনি যাচাই–বাছাই করেই করেছেন। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই। উখিয়া ওসির মন্তব্য উখিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন,“এসপি স্যার নিয়মিত বদলির মতো করেই তাকে দিয়েছেন। তিনি কোনো মামলার আসামি কিনা—আমি জানি না। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখব।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আশ্বস্ততা: কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বলেন,“পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে প্রাথমিক তদন্ত হবে। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার অভিযোগ সত্য হলে আইনগত প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত হবে।

Advertisement

Link copied!