ওসি পদায়নে রাজনৈতিক প্রভাব: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ও বিতর্ক

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:২৫ এএম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতিটি পুলিশ ইউনিটে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময়কার ভর্তি কর্মকর্তাদের পদায়ন, নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

সূত্রের দাবি, এই কর্মকর্তাদের নীতি, চিন্তাভাবনা ও পদক্ষেপ প্রধানত রাজনৈতিকভাবে সমর্থনশীল, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বাধীন ও কার্যকর কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছে। “বঞ্চিতদের তালিকায়” অন্তর্ভুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহেলিত রাখা হচ্ছে, পদায়ন বা দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

একাধিক ইন্সপেক্টরের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তারা শুধু রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অভিযোগ, ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার পর থেকে আওয়ামী লীগ প্রভাবিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অফিসার নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমর্থন বা আনুষ্ঠানিক ‘ভেটিং’-এর মাধ্যমে তাদের পছন্দ যাচাই করা হয়েছে। এতে অনেক কর্মকর্তা রাজনৈতিক যুক্তির ভিত্তিতে পদায়িত বা অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারে প্রভাব ফেলেছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কিছু কর্মকর্তা বিগত সরকারের আমলে অবৈধ অর্থ উপার্জন ও সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের কারণে পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত হয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দোহাই দিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে কিছু কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ বাহিনীর স্বায়ত্তশাসন ও কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এর ফলে অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে পুলিশ বাহিনীর ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিগত ঘটনাগুলো থেকে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও আনুষ্ঠানিক নিয়োগ নীতি না মেনে পদায়ন করা হলে, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা দুটোই হুমকির মুখে পড়ে।

Advertisement

Link copied!