কক্সবাজারের বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকোরিয়া-পেকুয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী, সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ পতন-পরবর্তী নির্বাচন হবে গণতান্ত্রিক যাত্রার ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ ১৬/১৭ বছরের এই স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ-বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এ গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ভোটাধিকারের জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি, সংগ্রাম করেছি। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী গোষ্ঠী শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার, নাগরিক অধিকারসহ সকল অধিকার বাস্তবায়িত হবে। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে ২০২৩ সালে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি প্রদান করেছিলাম। আমাদের সকল সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, সমৃদ্ধি এবং এ দেশের সকল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণ।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি। আমাদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন, যার মধ্যে একটি হচ্ছে আমরা সকল কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান করব। কৃষক কার্ড যার হাতে থাকবে, সে কার্ডের মধ্য দিয়ে তারা কৃষিঋণ পাবে। কৃষির সমস্ত উপকরণ ন্যায্যমূল্যে তারা পাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া তার অধিকার। সকল নাগরিকের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা স্বাস্থ্য কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করব। যে স্বাস্থ্য কার্ড যার হাতে থাকবে, প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা সে পাবে। 'সবার জন্য স্বাস্থ্য' এটি হচ্ছে আমাদের নীতি। কেউ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করবে না। আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। ফ্যামিলি কার্ড মানে পরিবার। পরিবারের যিনি মহিলা থাকবেন, মুরুব্বি, তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড থাকবে। সেটা যার হাতে থাকবে, সেই পরিবার প্রতি মাসে ভরণপোষণের জন্য ন্যায্যমূল্যে এবং বিনামূল্যে সেই পরিবারের সকল চাহিদা, যেমন চাল, ডাল, সয়াবিনসহ সকল প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করব। আমরা হয়তো প্রাথমিক পর্যায়ে সকল নাগরিককে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে পারব না, কিন্তু প্রথমবারেই পঞ্চাশ লাখ থেকে এক কোটি ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করব।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) মগনামা মৌলভী পাড়ায় মাওলানা জাফর আহমদ মজিদীর কবর জিয়ারত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে মগনামা ইউনিয়নের ফুলতলা স্টেশনে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নিজ জন্মভূমি পেকুয়ায় দ্বিতীয় দিন মগনামায় নির্বাচনী জনসংযোগ করেন। এ সময় হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জনসংযোগ করেন। পথসভা শেষে সিকদার পাড়ায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রয়াত মাহমুদুল করিমের কবর জিয়ারত করেন। এরপর বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করে মুহুরীপাড়া, কাজী মার্কেট স্টেশন, কালার পাড়া স্টেশনে পথসভা করেন। পরে তিনি রঙ্গিখালের পূর্বকূল এবাদুল্লাহ পাড়ায় আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি ৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পরে ধাপে ধাপে সকল পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
এছাড়া পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী উজানটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করেন এবং কবির আহমদ স্টেশন, করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট স্টেশন, গুদারপাড় স্টেশন, সোনালী বাজার স্টেশনে এবং পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পথসভায় যোগ দেন। মগনামা ও উজানটিয়া দুই ইউনিয়নে মোট সাতটি পথসভায় তিনি অংশ নেন। সর্বশেষ সন্ধ্যায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে পথসভা করেন। পথসভা ও জনসংযোগে জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিয় নেতাকে দেখতে ও স্বাগত জানাতে সড়কের পাশে অসংখ্য নারী-পুরুষ অবস্থান করেন। অনেকে তাদের প্রিয় নেতাকে দেখে আবেগাপ্লুত হন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, কক্সবাজার জেলা আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু, জেলা ওলামাদলের সভাপতি মাও. আলী হাসান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাফায়াত আজিজ রাজু, মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফায়সাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাকের হোসাইন, উজানটিয়া বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম, পেকুয়া সদর পশ্চিম জোন বিএনপির সভাপতি শাহনেওয়াজ আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনাফ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, মুহাম্মদ ইয়াসিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল আজিম, আহ্বায়ক ফরহাদ হোছাইন, তাঁতীদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, সদস্য সচিব ইমরুল হাসান ইমু, ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয়, সদস্য সচিব আবুল কাসেম নুরীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
আপনার মতামত লিখুন :