ধর্মপাশায় 'ডেভিল হান্ট' অভিযানে আটক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ৩ ঘণ্টা পর মুক্তি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএম

এনামুল কবির মুন্না, ‎ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ অভিযানে এক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে আটক করে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

আটককৃত ব্যক্তি রিফাত হাসান জনি (৩০)। তিনি ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তর বীর গ্রামের মো. আমীর হোসেনের ছেলে। তিনি সেলবরষ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ধর্মপাশা থানার পুলিশ ডেভিল হান্ট ফেজ–২ অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে রিফাত হাসান জনিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু কোনো মামলা দায়ের বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই বিকেল ৩টার দিকে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি অভিযানে আটক করার মতো অভিযোগ থাকে, তবে মাত্র তিন ঘণ্টায় সেই অভিযোগ কীভাবে নিষ্পত্তি হলো? আর যদি অভিযোগ না থাকে, তাহলে একজন রাজনৈতিক নেতাকে আটকই বা কেন করা হলো?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রিফাত হাসান জনি বিগত আওয়ামী সরকারের সময় সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন। অথচ এমন একজনকে ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে আটক করে রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ায় অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আহমেদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“এই ব্যক্তি আওয়ামী সরকারের সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নানা নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আজ তাকে পুলিশ আটক করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছেড়ে দেয়—এটা জনগণের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছু নয়।”

এ বিষয়ে ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্ল্যা বলেন,“আটকের পর যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, তিনি স্বেচ্ছায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং ৫ আগস্টের পর তার ভূমিকা ইতিবাচক ছিল। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—কেবল ফেসবুক যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে কি ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে আটক কাউকে ছেড়ে দেওয়া যায়? আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এভাবে ছাড় দেওয়ার পেছনে কোনো বিশেষ চাপ বা প্রভাব কাজ করেছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ঘটনাটি ধর্মপাশা থানার কার্যক্রম ও ডেভিল হান্ট অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Advertisement

Link copied!