ঠান্ডায় কাবু মৌলভীবাজার—ফুটপাতের শীতবস্ত্রই ভরসা নিম্নবিত্তের

মোঃ আব্দুস সামাদ আজাদ , মৌলভীবাজার জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৭:১০ পিএম

চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারে নেমেছে তীব্র শীত। ভোরের ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে পুরো শহর। রাত নামলেই বাড়ছে শীতের দাপট। এর চাপে সবচেয়ে বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষজনের কাছে শীতবস্ত্র কেনার একমাত্র ভরসা এখন শহরের ফুটপাতের বাজার।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায়শই শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড হচ্ছে, যা মৌলভীবাজারে শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামায় শীত অনুভূত হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি।

শহরের সড়ক, মার্কেট ও বিভিন্ন মোড়ে সন্ধ্যার পর বাড়ছে ভিড়। কম দামে কম্বল, পুরাতন জ্যাকেট ঝেড়ে দেখা, শিশুদের মোটা সোয়েটার বাছাই—সব মিলিয়ে ফুটপাতজুড়ে এখন সরগরম কেনাবেচা। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২-৩ দিন ধরে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। চাহিদায় এগিয়ে পুরাতন জ্যাকেট, সোয়েটার, মোজা, টুপি ও কম্বল।

এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, “শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা বাড়ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ আমাদের কাছেই আসেন, কারণ এখানে দাম কম—৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই বেশিরভাগ জিনিস পাওয়া যায়।”

দিনমজুর হাবিব মিয়া বলেন, “বাজারে নতুন পোশাকের দাম অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে ফুটপাত থেকেই কিনি। শীত তো থামবে না, গরম কাপড় লাগবেই।”

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ নভেম্বর মৌলভীবাজারে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর থেকে শীত আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সামনের দিনগুলোতেও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। মৌলভীবাজারসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলতে পারে।

শীতের প্রভাবে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হলেও শ্রীমঙ্গল, লাউয়াছড়া, মাধবকুণ্ড, হাইল হাওরসহ জেলার পর্যটন স্পটে দেখা যাচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি। বছরের শেষভাগে এসব স্পটে কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, তীব্র শীতে নিম্নবিত্ত ও চা-শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও শীতবস্ত্র সহায়তা। নাহলে দীর্ঘ শীত মৌসুম তাদের জন্য আরও দুর্ভোগ ডেকে আনবে।

Advertisement

Link copied!