স্কুল নেই, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: দোয়ারাবাজার দক্ষিণ বড়বন্দে শিক্ষার জন্য লড়াই 

মাসুদ রানা সোহাগ , দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:১২ পিএম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বড়বন্দ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে চরমভাবে পিছিয়ে রয়েছে এ এলাকার মানুষ। মৌসুমি পানিবদ্ধতা ও যাতায়াতের মারাত্মক অসুবিধার কারণে এখানকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ বড়বন্দ এলাকায় সরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা দোয়ারাবাজার সদরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে স্কেচ ম্যাপ ও আসনসংকটের কারণে সেখানে নিয়ম অনুযায়ী ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয়। অথচ এই এলাকায় প্রায় ২০০–৩০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ফলে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ছাড়া বাকিরা বাধ্য হয়ে কর্মমুখী হয়ে পড়ছে এবং শিক্ষা থেকে ঝরে যাচ্ছে।

একটি কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা যে একটি এলাকার সার্বিক চিত্র বদলে দিতে পারে—এ বিশ্বাস থেকেই এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দক্ষিণ বড়বন্দ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৪৪ জন ও বর্তমানে ৫ জন শিক্ষিকা পাঠদান করছেন।

জানা যায়, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের ৮০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হয়েছে। একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ি ভাড়া নিয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের এমন উদ্যোগে বিদ্যালয় চালু হওয়ায় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আনন্দের সঙ্গে প্রতিদিন স্কুলে আসছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের জন্য বেঞ্চ, আসবাবপত্র এবং সর্বোপরি সরকারি অনুমোদনসহ একটি স্থায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তাদের।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুপ রতন সিংহ জানান, দক্ষিণ বড়বন্দ এলাকার শিক্ষা পরিস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

Advertisement

Link copied!