নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কালনার মোড়ে অবস্থিত ‘বাবা ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকানে লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই সরকারি বিএডিসির ডিএপি, এমওপি, টিএসপি ও ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকদের অতিরিক্ত দামে সার কিনে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ সরকারি ডিএপি, টিএসপি ও ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে বিভিন্ন প্রকার বালাইনাশক ও কৃষি রাসায়নিকও বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ দোকানটির মালিক কোনো অনুমোদিত সার ডিলার নন এবং বালাইনাশক বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও তার নেই।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার শুধুমাত্র অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে নির্ধারিত ডিলার পয়েন্ট ও কৃষি বিপণন ব্যবস্থার আওতায় বিক্রি করার বিধান রয়েছে। খুচরা সাধারণ দোকানে কিংবা লাইসেন্সবিহীন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি সার বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। একইভাবে বালাইনাশক বিক্রির জন্য কীটনাশক আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের অনুমোদন ও বৈধ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, লাইসেন্সবিহীন এই দোকান থেকে সার কিনতে তাদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক কৃষক বাধ্য হয়েই এখান থেকে সার কিনছেন।
এ বিষয়ে বাবা ট্রেডার্সের মালিক এনামুল ইসলাম বলেন, "আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে সার সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে দোকানে আনি এবং খুচরা দামে বিক্রি করি। আমি ডিলার বা সাব-ডিলার নই। আমার কৃষি জমি আছে এজন্য সেই জমিতে সার দিই, পাশাপাশি সার বিক্রিও করি।" বালাইনাশক বিক্রির ক্ষেত্রেও তার কোনো অনুমোদন নেই বলে তিনি স্বীকার করেন এবং পাশের দোকান বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স থেকে কিনেছেন বলে জানান।
তবে বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রাজু জানান, "আমরা পাশের দোকানে কোনো সার দিই না। আমরা কৃষকদের আইডি কার্ড নিয়ে এরপর সার দিই। কোনো অনুমোদনহীন খুচরা দোকানে আমরা সার দিই না।"
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, "বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আপনার মতামত লিখুন :