হোসেন আলী, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন চত্বরে শীতকালীন পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। গতকাল ১৬ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. এস এম তারেক হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুলী বিশ্বাস সহ গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ।
উক্ত পিঠা উৎসবে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জের জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে ত্রিবেনী সাংস্কৃতিক শিল্প গোষ্ঠী।
পিঠা উৎসবে জেলা প্রশাসকের সহধর্মিণী রোজি আহমেদ বলেন, পিঠা উৎসব মূলত শীতকালকেন্দ্রিক একটি লোকজ উৎসব। গ্রামবাংলার জীবনধারা, কৃষিভিত্তিক সমাজ ও ঋতুচক্রের সঙ্গে এই উৎসব গভীরভাবে জড়িত। অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে নতুন ধান ঘরে ওঠে, সেই নতুন চাল ও চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম মুখরোচক পিঠা। এ কারণেই পিঠাকে বলা হয় "নবান্নের আনন্দঘন খাবার"।
তিনি আরও বলেন, পিঠার বৈচিত্র্য আমাদের সংস্কৃতির মতোই সমৃদ্ধ। ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, চিতই পিঠা, দুধ পুলি, খেজুর গুড়ের পিঠা—প্রতিটি পিঠার স্বাদ, গন্ধ ও তৈরির পদ্ধতি আলাদা। বিশেষ করে খেজুরের রস ও গুড়ের ব্যবহার পিঠাকে আরও সুস্বাদু করে তোলে এবং শীতের আমেজ বাড়িয়ে দেয়।
গোপালগঞ্জের জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, পিঠা উৎসব শুধু খাবারের উৎসব নয়, এটি সামাজিক বন্ধনেরও উৎসব। এই সময়ে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা একত্রিত হন। মা-খালা-দাদিরা মিলিতভাবে পিঠা বানান, গল্প করেন, হাসি-আনন্দে মেতে ওঠেন। এতে প্রজন্মের পর প্রজন্মে সংস্কৃতি হস্তান্তর হয়।
তবে দুঃখের বিষয়, আধুনিকতার প্রভাবে ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর চল কিছুটা কমে যাচ্ছে। তাই পিঠা উৎসবের মাধ্যমে আমাদের উচিত এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, পিঠা শুধু স্বাদের তৃপ্তি দেয় না, এটি আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। আসুন, আমরা সবাই মিলে পিঠা উৎসবকে ভালোবাসি, লালন করি এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে গর্বের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাই।
আপনার মতামত লিখুন :